বাংলাদেশ ডেস্ক
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জানিয়েছেন, বাংলাদেশের প্রার্থী হিসেবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচনে ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি) ও তার সদস্য দেশগুলো পূর্ণ এবং দ্ব্যর্থহীন সমর্থন প্রদান করেছে। তিনি বলেন, ওআইসিভুক্ত দেশগুলো শুধু ভোট দেওয়ার প্রতিশ্রুতিই দেয়নি, বরং বাংলাদেশের পক্ষে বিশ্বজুড়ে সক্রিয় প্রচারও চালাবে।
সৌদি আরব সফর শেষে আজ (শনিবার) ভোরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ড. খলিলুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, বাংলাদেশের জয় নিশ্চিতে ওআইসিভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা এবং কৌশল নির্ধারণ করা হয়েছে। মন্ত্রী উল্লেখ করেন, সরকার পরিবর্তনের পর বাংলাদেশের প্রার্থী পরিবর্তিত হয়ে ড. খলিলুর রহমান নির্বাচিত হয়েছেন। এর আগে অন্তর্বর্তী সরকার সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনকে মনোনয়ন দিয়েছিল।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “সরকার পরিবর্তনের পর আমাদের প্রার্থী পরিবর্তন করা হয়েছে। সাইপ্রাস সারাবছর প্রচার চালিয়েছে, অথচ আমাদের হাতে সময় আছে মাত্র তিন মাস বা তারও কম। এটাই আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।” এছাড়া তিনি জানান, প্রত্যাশা অনুযায়ী ফিলিস্তিন কয়েকদিন আগে তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছে। ফলে ২০২৬-২০২৭ মেয়াদের সভাপতি পদে বাংলাদেশের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী এখন শুধু সাইপ্রাস।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এই সমর্থনকে অত্যন্ত উৎসাহব্যঞ্জক হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, “আমরা খুবই ইতিবাচক সাড়া পেয়েছি। সুবিধাজনক সময়ে এ বিষয়ে বিস্তারিত মূল্যায়ন করা হবে। এ পর্যন্ত পাওয়া সমর্থন বেশ জোরালো। সফরটি অত্যন্ত ফলপ্রসূ ও সফল হয়েছে।”
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির নির্বাচন আগামী ২ জুন নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত হবে। সংস্থার কার্যবিধি অনুযায়ী, নির্বাচনে আঞ্চলিক পালাক্রম প্রণালী অনুসরণ করা হবে এবং এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপ থেকে একজন সভাপতি নির্বাচিত হবেন। ২০২৬ সালের ৮ সেপ্টেম্বর সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন শুরু হবে এবং ২২ সেপ্টেম্বর থেকে উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্ক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বাংলাদেশের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ সময়, কারণ ১৯৮৬-৮৭ সালে তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী জাতিসংঘের ৪১তম সাধারণ পরিষদের সভাপতি ছিলেন।
ড. খলিলুর রহমান আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “যুদ্ধ কারও জন্যই সুফল বয়ে আনে না। বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত দুঃখজনক। বাংলাদেশ সতর্কতার সঙ্গে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে এবং এখনই প্রকাশ্য বিবৃতি দেবে না। আমরা চেষ্টা করছি দুই দেশকে বোঝানোর যে এ ধরনের সংঘাত কারও স্বার্থ রক্ষা করে না।”
ফিলিস্তিন ইস্যুতে বাংলাদেশের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, দেশের নীতিতে কোন পরিবর্তন হয়নি এবং ফিলিস্তিনের প্রতি সমর্থন অবিচল থাকবে। এছাড়া ওআইসির সাম্প্রতিক নির্বাহী সভায় অংশ নেওয়া নেতারা বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও উন্নয়ন ত্বরান্বিত হওয়ার ওপর আস্থা প্রকাশ করেছেন এবং জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের নির্বাচনে বাংলাদেশের প্রার্থিতার পক্ষে পুনরায় পূর্ণ সমর্থনের কথা জানিয়েছেন।


