জাতিসংঘ মহাসচিব পাকিস্তান-আফগান সীমান্তে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানালেন

জাতিসংঘ মহাসচিব পাকিস্তান-আফগান সীমান্তে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানালেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যকার চলমান সহিংসতা বন্ধের জন্য অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার আহ্বান জানিয়েছেন। শুক্রবার মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, সীমান্তবর্তী এলাকায় সংঘাতের তীব্রতা বৃদ্ধিতে মহাসচিব গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

মুখপাত্রের বরাতে মহাসচিব গুতেরেস বলেছেন, চলমান সহিংসতার প্রভাব সরাসরি সাধারণ মানুষের ওপর পড়ছে এবং তাদের নিরাপত্তা ও জীবনমান ঝুঁকিতে রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেছেন, দুই দেশের মধ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা এবং কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে মতপার্থক্য সমাধান করা অপরিহার্য।

জাতিসংঘের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সীমান্ত এলাকায় সন্ত্রাসী হামলা, বিমান হামলা ও স্থলযুদ্ধের কারণে বহু অসহায় মানুষ নিজ নিজ বসতভূমি ত্যাগ করতে বাধ্য হচ্ছে। শরণার্থী শিবিরগুলোতে অভ্যন্তরীণ সংকট ও মানবিক সাহায্যের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলো দীর্ঘদিন ধরেই বিচ্ছিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর আক্রমণ ও প্রতিরক্ষা কর্মকাণ্ডের মুখোমুখি। এসব সংঘাত সাধারণত সীমান্ত পাড়ি দিয়ে অস্ত্রচোরাকার্যক্রম, মাদকপথ, এবং বিদ্রোহী গোষ্ঠীর দখলকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হচ্ছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সীমান্ত এলাকায় সহিংসতার স্থায়ী সমাধান না হওয়া পর্যন্ত মানবিক বিপর্যয় ও নিরাপত্তা ঝুঁকি অব্যাহত থাকবে।

জাতিসংঘের এই আহ্বান পূর্বে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং মানবাধিকার সংস্থাও উভয় দেশের সরকারকে শান্তি বজায় রাখতে এবং মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিতে চাপ দিয়ে আসছে। বিশেষ করে শিশু, নারী ও বৃদ্ধদের ওপর সহিংসতার প্রভাব সম্পর্কে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।

মহাসচিবের আহ্বানকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে আন্তর্জাতিক কূটনীতিকরা। তাদের মতে, উভয় দেশের মধ্যে রাজনৈতিক সংলাপ ও দ্বিপক্ষীয় আলোচনা ছাড়া সীমান্তে স্থায়ী শান্তি নিশ্চিত করা কঠিন হবে। নিরাপত্তা ও মানবিক অবস্থার উন্নতি ছাড়া আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে নাগরিকদের জীবনমানের স্থায়ী উন্নতি সম্ভব নয়।

বিশ্ব সম্প্রদায়কে এই সংকটের দিকে নজর দিতে এবং মানবিক সহায়তা কার্যক্রম দ্রুততর করতে জাতিসংঘের আহ্বানকে সমর্থন জানানো হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা আশাপ্রকাশ করছেন যে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ও সমন্বিত পদক্ষেপের মাধ্যমে সীমান্তে সহিংসতা দ্রুত কমানো সম্ভব হতে পারে।

আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদ