জাতীয় ডেস্ক
ঠাকুরগাঁও, ২৭ ফেব্রুয়ারি: বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শুক্রবার ঠাকুরগাঁওয়ে অনুষ্ঠিত বেসরকারি সংস্থা ইএসডিওর ইফতার মাহফিলে বক্তব্যে দেশীয় রাজনৈতিক ও উন্নয়ন কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত পরিকল্পনা উপস্থাপন করেছেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, স্বাধীনতা সংগ্রাম ও গণআন্দোলনের চেতনাকে ধারণ করে জাতি গঠনে এগিয়ে যাওয়া প্রয়োজন। তিনি উল্লেখ করেন, ‘৫২, ৭১, ৯০ এবং ২৪-এর চেতনাকে ধারণ করে আমরা দীর্ঘদিনের সংগ্রামের ফলস্বরূপ রাজনৈতিক সরকারকে বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হয়েছি।’ তিনি নতুন সরকারের বয়স মাত্র ১৫ দিন হলেও লক্ষ্য অর্জনের পথে দ্রুত অগ্রগতি শুরু হয়েছে বলে জানান।
মির্জা ফখরুল ঠাকুরগাঁও মেডিক্যাল কলেজ বাস্তবায়নের বিষয়ে তথ্য দিয়েছেন এবং জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষণার বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট টিম কাজ শুরু করেছে। এছাড়া, তিনি জেলায় পরিকল্পিত আরও কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্পের কথা তুলে ধরেছেন। তিনি জানান, ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর চালু করার কাজ অগ্রগতি করছে এবং ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ শিগগিরই শুরু হবে। যুবকদের কর্মসংস্থানের জন্য ইপিজেড নির্মাণের প্রকল্পও অচিরেই কার্যক্রম শুরু করবে।
কৃষি খাত সম্পর্কিত ঘোষণা প্রদান করে তিনি বলেন, কৃষকদের ১০ হাজার টাকা কৃষিঋণ সুদসহ মাফ করা হয়েছে। এছাড়া, মা ও বোনদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের কার্যক্রম চলছে। তিনি নতুন বাংলাদেশ গঠনের উদ্দেশ্যে জাতীয় ঐক্য ও সক্রিয় অংশগ্রহণের গুরুত্বেও গুরুত্বারোপ করেন।
ইফতার মাহফিলে ইএসডিও নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ শহীদ উজ জামানের সভাপতিত্বে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী এবং পঞ্চগড়-২ আসনের সংসদ সদস্য ফরহাদ হোসেন আজাদসহ ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় ও দিনাজপুরের সংসদ সদস্যরা, সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা, রাজনীতিবিদ ও অন্যান্য বিশিষ্টজন উপস্থিত ছিলেন।
মির্জা ফখরুলের এই বক্তব্যে নতুন সরকারের প্রথম কিছু দিনের কার্যক্রম, বিভিন্ন জেলা পর্যায়ের উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি এবং কৃষি ও সামাজিক সুরক্ষা সম্পর্কিত পদক্ষেপের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে। এগুলো স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবনে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বিমানবন্দর ও বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, ইপিজেড নির্মাণ এবং কৃষি ঋণ মওকুফের মতো উদ্যোগ স্থানীয় অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
স্থানীয় পর্যায়ের এই উন্নয়ন কর্মসূচি ও রাজনৈতিক পরিকল্পনার মাধ্যমে ঠাকুরগাঁও ও পার্শ্ববর্তী জেলা গুলোর সামাজিক-অর্থনৈতিক অবকাঠামো শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া, নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে যুবসমাজের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি এবং এলাকায় সামগ্রিক কল্যাণমূলক পরিবেশ সৃষ্টির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
এ ধরনের কর্মসূচি ও ঘোষণা স্থানীয় জনগণের মধ্যে সরকারের কার্যক্রম ও পরিকল্পনা সম্পর্কে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনার বাস্তবায়নে সহায়ক হিসেবে কাজ করতে পারে।


