ধানমন্ডিতে ‘মুজিব প্রেমিক বাংলার নারী’ মিছিল: আটজন গ্রেপ্তার

ধানমন্ডিতে ‘মুজিব প্রেমিক বাংলার নারী’ মিছিল: আটজন গ্রেপ্তার

রাজধানী ডেস্ক

রাজধানীর ধানমন্ডিতে ‘মুজিব প্রেমিক বাংলার নারী’ শীর্ষক ঝটিকা মিছিলের সময় আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে ধানমন্ডি থানা পুলিশ। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) ভোর সোয়া ৬টায় ধানমন্ডি ২ নম্বর সড়কের স্টার কাবাব রেস্তোরাঁর সামনে থেকে গ্রেপ্তার করা হয় সাতজন নারী এবং তাদের বহনকারী একটি মাইক্রোবাসের চালককে। এ সময় বেশ কয়েকটি প্লাকার্ডও পুলিশ জব্দ করেছে।

ধানমন্ডি থানার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মিছিলের খবর পেয়ে টহলরত মোবাইল টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছালে অংশগ্রহণকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। পুলিশ তখন সাতজন নারীকে গ্রেপ্তার করে এবং মাইক্রোবাসটি জব্দ করা হয়। পরবর্তীতে গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, “ঘটনাস্থল থেকে সাতজন নারী এবং একটি মাইক্রোবাসের চালককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মাইক্রোবাস ও বিভিন্ন ধরনের প্লাকার্ড জব্দ করা হয়েছে। পরবর্তীতে গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।”

পুলিশ বলেছে, এটি একটি অগণতান্ত্রিক এবং অনুমোদনবিহীন মিছিল ছিল। আইন অনুযায়ী অপরাধকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা মূলত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন।

ধনমন্ডি এলাকায় এমন ধরনের ঝটিকা মিছিলের ঘটনা আগে কিছু সময় হ্রাস পেয়েছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে কিছু ব্যক্তি বা সংগঠন অনুমোদন ছাড়াই জনসমক্ষে মিছিল এবং সমাবেশ আয়োজন করছে। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নিরাপত্তার স্বার্থে এবং জনমনে আতঙ্ক না সৃষ্টি করার জন্য এই ধরনের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে রাখা হচ্ছে।

সন্ত্রাসবিরোধী আইন অনুযায়ী মিছিল বা সমাবেশের ক্ষেত্রে অনুমোদন না থাকলে তা আইনগত অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়। পুলিশ বলেছে, আইন মেনে না চললে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থানীয় প্রশাসনও ভবিষ্যতে অনুমোদন ছাড়া সমাবেশ এবং মিছিলের ক্ষেত্রে নজরদারি বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে।

গ্রেপ্তারকৃতদের আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর স্থানীয় আদালতে হস্তান্তর করা হবে। এ ঘটনায় প্রমাণ হিসেবে জব্দ করা প্লাকার্ড ও মাইক্রোবাসের তথ্য পুলিশ তদন্তে ব্যবহার করবে। তদন্তকারীরা আশঙ্কা করছেন, অনুমোদনবিহীন মিছিলগুলোতে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছড়িয়ে দেওয়া বা জনমানসে প্রভাবিত করার প্রচেষ্টা থাকতে পারে।

পুলিশ এবং প্রশাসন আশা করছে, নিয়ম ও আইন মেনে চলার মাধ্যমে ভবিষ্যতে এমন ধরনের ঝটিকা মিছিলের সংখ্যা হ্রাস পাবে এবং রাজধানীর সাধারণ জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।

আইন আদালত শীর্ষ সংবাদ