আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক ডেস্ক
নরসিংদী, ২৮ ফেব্রুয়ারি: নরসিংদীতে ধর্ষণ মামলায় জড়িত কোনো ব্যক্তিকে আশ্রয় দিলে তাদের “শেকড় ধরে উপড়ে ফেলা হবে” বলে সতর্ক করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। শনিবার ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ মন্তব্য করেন।
মন্ত্রী বলেন, দেশের বিচার ব্যবস্থায় মামলার জট একটি প্রকট সমস্যা হিসেবে বিদ্যমান। এটি নিরসনের জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতার অপব্যবহার হলে বিষয়টি সুপ্রিম কোর্ট দেখবেন।
আইনমন্ত্রী আরও বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে যে ১৩৩টি সাংবিধানিক অধ্যাদেশ প্রণীত হয়েছে, সেগুলোকে সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিনেই বিল আকারে পেশ করা হবে। তিনি এই অধ্যাদেশগুলোকে পরিপূর্ণভাবে প্রণীত ও কার্যকর করার পরিকল্পনা সম্পর্কে তথ্য দেন।
মন্ত্রী মাদক, সন্ত্রাস, রাজনৈতিক দমন-উপদমন, হানাহানি ও মারামারিসহ নানা অপরাধের ক্ষেত্রে প্রশাসনকে নিরপেক্ষ ভূমিকা রাখার নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি বলেন, কয়েকজন দুষ্কৃতিকারীর কারণে সরকারের সু-প্রতিষ্ঠিত ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হতে পারবে না।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপচারিতায় মন্ত্রী সমাজের ন্যায্যতা ও আইন শৃঙ্খলার প্রতি প্রশাসনের প্রতিশ্রুতির কথা তুলে ধরেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ধর্ষণসহ সহিংসতা ও অমানবিক কার্যকলাপে জড়িতদের জন্য কোনও প্রকার আশ্রয় প্রদানের সুযোগ থাকবে না।
এ সময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাসউদ, পুলিশ সুপার মাহফুজ আফজাল, জেলা বিএনপি সভাপতি এমএ মজিদ, রাশেদ খান এবং বিভিন্ন পেশার লোকজন। আইনমন্ত্রী সরকারের আইন ও শৃঙ্খলা সংক্রান্ত নীতি বাস্তবায়নে প্রশাসন ও স্থানীয় প্রতিনিধিদের সমন্বয়মূলক কাজের গুরুত্বও উল্লেখ করেন।
মন্ত্রীর এই মন্তব্যের প্রেক্ষাপটে দেশের আইনশৃঙ্খলা ও বিচার ব্যবস্থার কার্যকারিতা এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের ওপর প্রশাসনের প্রতিশ্রুতি নতুনভাবে পুনর্ব্যক্ত হলো। দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ধর্ষণ ও সহিংসতা প্রতিরোধে সরকারি তৎপরতা বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।


