পটুয়াখালীতে প্রতিমন্ত্রীর নাগরিক মতবিনিময় সভা ও গণ-ইফতার অনুষ্ঠিত

পটুয়াখালীতে প্রতিমন্ত্রীর নাগরিক মতবিনিময় সভা ও গণ-ইফতার অনুষ্ঠিত

জাতীয় ডেস্ক

পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলা পরিষদ চত্বরে ‘সমতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নে নাগরিক ভাবনা’ শীর্ষক উন্মুক্ত মতবিনিময় সভা ও গণ-ইফতার অনুষ্ঠানে বক্তৃতা কালে শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর বলেন, সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর তাদের কোনো প্রতিহিংসার রাজনীতি করা হয়নি এবং কাউকে আঘাত করা হয়নি। তিনি আরও জানান, নির্বাচনের আগে প্রদত্ত প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে চাঁদাবাজি বন্ধ করতে কাজ শুরু করা হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী নুর বলেন, “আমরা প্রতিহিংসার রাজনীতি নয়, বরং ঐক্য, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের রাজনীতি করতে চাই। এজন্য সকলকে একসাথে ঐক্যবদ্ধ থেকে এলাকার উন্নয়নে কাজ করতে হবে।” তিনি বলেন, চরের জমিতে কৃষকরা যেন স্বত্বাধিকারী হতে পারে এবং হাট-বাজার, লঞ্চঘাট ও খেয়াঘাটে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের সুযোগ যেন কেউ না পায়, সে বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। নুর উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন, আমখোলা তরমুজের ঘাট ও হরিদেবপুরের স্থানগুলো উন্মুক্ত করা হয়েছে। তিনি বলেন, কোনো ব্যবসায়ী রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে চাঁদা বা অন্য অনৈতিক সুবিধা নিতে পারবে না।

প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন এবং জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয় করে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি বলেন, “আমার এলাকায় কোনো যুবক-তরুণ যেন বেকার না থাকে, তাদের কর্মসংস্থানের জন্য কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে।”

সভায় প্রতিমন্ত্রী স্থানীয় উন্নয়ন, সামাজিক সমতা এবং নাগরিক অংশগ্রহণের গুরুত্বের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, এলাকার জনগণকে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে যুক্ত করতে স্থানীয় প্রশাসন ও elected জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয় অপরিহার্য। এছাড়া মাদক, জুয়া ও অন্যান্য অনৈতিক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও সমাজের সকল স্তরের মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন।

উক্ত উন্মুক্ত মতবিনিময় সভা ও গণ-ইফতার অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার স্থানীয় মানুষ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী নাগরিকদের সরাসরি প্রশ্নের জবাব দেন এবং স্থানীয় সমস্যা ও উন্নয়নের পরিকল্পনা সম্পর্কিত বিষয়ের ওপর আলোচনা করেন। এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে সরকারের নীতি ও কর্মপরিকল্পনা স্থানীয় জনগণের সঙ্গে শেয়ার এবং বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার জন্য মতামত গ্রহণের সুযোগ তৈরি হয়।

সভায় প্রতিমন্ত্রী বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, স্থানীয় কৃষক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষা, জনগণের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন এবং জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের উন্নয়নমূলক উদ্যোগকে বাস্তবায়ন করতে নাগরিক অংশগ্রহণ অপরিহার্য। তিনি আশ্বস্ত করেন যে, সকল পদক্ষেপ প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে সম্পন্ন হবে এবং এলাকার উন্নয়নে সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ