মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইসরাইলে বৈঠক করবেন ইরান-সংক্রান্ত বিষয়ে

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইসরাইলে বৈঠক করবেন ইরান-সংক্রান্ত বিষয়ে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আগামী সোমবার ইসরাইলে ইরান সম্পর্কিত বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করবেন। বৈঠকের একদিন আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে তার সামরিক উপস্থিতি জোরদার করছে এবং সম্ভাব্য ইরান হামলার প্রস্তুতি গ্রহণ করছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র টমি পিগট জানিয়েছেন, রুবিও এই সফরে ইরান, লেবানন ও গাজার পরিস্থিতি এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০-দফা শান্তি পরিকল্পনার বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক অগ্রাধিকার নিয়ে আলোচনা করবেন। তিনি আরও জানিয়েছেন, রুবিও তার বিমানে সাংবাদিকদের সঙ্গে থাকবেন না, যা মার্কিন পররাষ্ট্র কর্মকর্তাদের দীর্ঘদিনের প্রথার বিপরীত এবং নজিরবিহীন ঘটনা হিসেবে ধরা হচ্ছে।

রুবিওর সফর এমন সময় হচ্ছে যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান জেনেভায় তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন দফা আলোচনা শুরু করেছে। আলোচনা মূলত সম্ভাব্য সংঘাত এড়ানো এবং পারমাণবিক কর্মসূচির নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে। মধ্যস্থতাকারী ওমান ইতোমধ্যে আলোচনায় অগ্রগতির বিষয় জানিয়েছে, কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি। অন্যদিকে, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আহ্বান জানিয়েছে যে, চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য অতিরিক্ত দাবিগুলো প্রত্যাহার করতে হবে।

এই সময়কালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলের জরুরি নয় এমন কর্মীদের দেশ ছাড়ার পরামর্শ দিয়েছে, যা কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মধ্যে ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে যে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে কেন্দ্র করে তার কূটনৈতিক ও সামরিক নীতি সমন্বয় করছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ধরনের সফর ও সামরিক প্রস্তুতি মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা এবং দুই দেশের সম্পর্কের ভবিষ্যৎকে প্রভাবিত করতে পারে।

রুবিওর বৈঠকের ফলাফল ইরান, লেবানন ও গাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, পারমাণবিক চুক্তি বাস্তবায়ন এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য নীতি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা রোধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভূমিকার সম্ভাবনাও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতি, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণ এবং শান্তি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রেক্ষাপটে এই সফর কূটনৈতিকভাবে সংবেদনশীল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। মার্কিন কর্মকর্তারা আশা করছেন যে, বৈঠক কার্যকরভাবে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বিদ্যমান উত্তেজনা হ্রাস করবে।

আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদ