সারাদেশ ডেস্ক
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার দুই কিশোরীকে অপহরণের ঘটনায় মেহেদী হাসান (২০) ও জুনায়েদ (২০) নামে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় অপহৃত দুই কিশোরীকেও উদ্ধার করা হয়েছে। অপহৃতরা একে অপরের চাচাতো বোন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে বিদ্যালয়ে প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হওয়ার সময় কৌশলে দুই কিশোরীকে অপহরণ করে অভিযুক্তরা। এরপর তাদের কুমিল্লা শহরের বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে ঘোরাফেরা করে। রাতের দিকে তারা পার্শ্ববর্তী দেবিদ্বার উপজেলার চাপানগর এলাকায় অবস্থান নেয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একই রাত সাড়ে ১০টার দিকে পুলিশ চাপানগর এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে প্রধান দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে এবং অপহৃত কিশোরীদের উদ্ধার করে।
গ্রেপ্তারকৃত জুনায়েদ মুরাদনগর উপজেলা সদরের মধ্যপাড়া এলাকার আবু সিদ্দিকের ছেলে। অপর গ্রেপ্তার মেহেদী হাসান পার্শ্ববর্তী দেবিদ্বার উপজেলার সুবিল ফাইতাবাজ গ্রামের বাবুল মিয়ার ছেলে। মেহেদী হাসান বর্তমানে মুরাদনগর মধ্যপাড়া এলাকায় ভাড়া থাকতেন।
মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন চৌধুরী বলেন, “দুই নাবালিকাকে অপহরণের অভিযোগ পাওয়ার পরপরই আমরা দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছি। মুরাদনগর থানা পুলিশের তৎপরতায় অল্প সময়ের মধ্যেই ভিকটিমদের উদ্ধার এবং আসামিদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করে আদালতের মাধ্যমে তাদের জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।”
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্তদের ধরা পড়ার পর থেকে পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে শঙ্কা ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছিল। স্থানীয়রা আশা প্রকাশ করেছেন যে, এই ঘটনার দ্রুত ও সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা হবে। অপহরণের এই ঘটনা কিশোরীদের নিরাপত্তা এবং এলাকায় অশান্তির বিষয়টিকে প্রাধান্য দিয়েছে।
অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মুরাদনগর থানায় শিশু অধিকার আইন ও সংশ্লিষ্ট অপরাধ সংক্রান্ত মামলাসহ বিভিন্ন ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। আদালত বৃহস্পতিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) গ্রেপ্তারকৃত দুই যুবককে জেল হাজতে প্রেরণ করার আদেশ দেন।
স্থানীয় প্রশাসন এবং পুলিশ বলছে, এই ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে তারা বিদ্যালয় ও বাসা সংলগ্ন এলাকায় নিরাপত্তা বৃদ্ধি এবং কিশোর-কিশোরীদের সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য পদক্ষেপ নেবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং কিশোরী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারিবারিক নজরদারি ও সামাজিক সচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই ঘটনায় কুমিল্লা অঞ্চলের জনগণ নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা এবং পুলিশি তৎপরতার প্রশংসা করছেন। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযান ও তদন্ত আরও গভীরভাবে চালিয়ে আসামিদের সাথে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সম্ভাব্য ব্যক্তি ও ঘটনাস্থল সম্পর্কিত তথ্য যাচাই করা হবে।


