রাজনীতি ডেস্ক
কুমিল্লার তিতাস ও হোমনা উপজেলার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) চার নেতাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করেছে। শনিবার উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সদস্যসচিবরা পৃথক চিঠির মাধ্যমে তাদের দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত কার্যকর করেন।
বহিষ্কৃত নেতাদের মধ্যে তিতাস উপজেলার ভিটিকান্দি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. ফরিদ সরকার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হানিফ মুন্সী, সাংগঠনিক সম্পাদক যুবরাজ ইসলাম রাসেল ওরফে মো. রাসেল ইসলাম রয়েছেন। এছাড়া হোমনা উপজেলার আসাদপুর ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মজিবর পাঠানকেও দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে বহিষ্কার করা হয়েছে।
তিতাস উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব মেহেদী হাসান সেলিম ভূঁইয়া জানান, বহিষ্কৃত নেতারা দলীয় পদে সক্রিয় থেকে নির্বাচনের সময়ে অন্য প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছেন। এই আচরণ দলের শৃঙ্খলা ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছে। বহিষ্কারের মাধ্যমে দলের শৃঙ্খলা রক্ষা এবং রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে উদ্ভূত বিভ্রান্তি দূর করা হয়েছে।
বিএনপির এই পদক্ষেপ স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তিতাস ও হোমনা উপজেলায় দলের একতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য কেন্দ্রীয় ও উপজেলা নেতৃবৃন্দ এই ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচনী সময়ে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের ঘটনা প্রতিহত করতে এমন পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, বহিষ্কৃত নেতাদের বিরুদ্ধে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সময় অন্য প্রার্থীর পক্ষে সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার অভিযোগ ছিল। বহিষ্কারের মাধ্যমে দলীয় শৃঙ্খলা পুনরায় সুসংহত করার পাশাপাশি স্থানীয় স্তরে দলের নেতৃত্বের প্রতি আনুগত্য ও দায়বদ্ধতার গুরুত্ব প্রতিফলিত হচ্ছে।
কুমিল্লার রাজনৈতিক অঙ্গনে এই ঘটনা স্থানীয় নেতাদের মধ্যে সতর্কতা এবং দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষার বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে তিতাস ও হোমনা উপজেলার নির্বাচনী কার্যক্রমে বিএনপির একতা বজায় রাখার প্রয়াসে এই পদক্ষেপকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।


