বিসিএলে সেঞ্চুরিতে আলোচনায় জিসান-আকবর, ধারাবাহিকতায় জাতীয় দলে সুযোগের ইঙ্গিত আশরাফুলের

বিসিএলে সেঞ্চুরিতে আলোচনায় জিসান-আকবর, ধারাবাহিকতায় জাতীয় দলে সুযোগের ইঙ্গিত আশরাফুলের

খেলাধূলা ডেস্ক

রাজশাহী ও বগুড়ায় অনুষ্ঠিত ওয়ানডে ফরম্যাটের বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগ (বিসিএল)-এর গ্রুপপর্বের খেলা শনিবার শেষ হয়েছে। শেষ রাউন্ডের ম্যাচগুলোতে তরুণ ওপেনার জিসান আলম লিস্ট ‘এ’ ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নেন। এর আগে একই আসরে শতক হাঁকিয়েছেন আকবর আলিও। পারফরম্যান্সে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারলে এই ক্রিকেটাররা জাতীয় দলের নির্বাচকদের বিবেচনায় আসতে পারেন বলে জানিয়েছেন দলের কোচ মোহাম্মদ আশরাফুল।

গ্রুপপর্বে ব্যাট হাতে জিসান আলমের সেঞ্চুরি বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে এটি তার প্রথম শতক। বয়সভিত্তিক ক্রিকেট থেকে উঠে আসা এই ওপেনার দীর্ঘদিন ধরেই সম্ভাবনাময় হিসেবে বিবেচিত হলেও বড় ইনিংসের অভাব ছিল। সাম্প্রতিক ম্যাচে সেই ঘাটতি পূরণ করে তিনি নির্বাচকদের নজর কাড়েন। একইভাবে আকবর আলিও এই আসরে সেঞ্চুরি করে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন। বয়সভিত্তিক পর্যায়ে সাফল্যের পর জাতীয় দলের আশপাশে থাকলেও ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের প্রয়োজনীয়তা ছিল তার জন্যও।

গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে কোচ মোহাম্মদ আশরাফুল বলেন, খেলোয়াড়দের জন্য নিয়মিত ফর্মে থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি জিসানের প্রথম লিস্ট ‘এ’ সেঞ্চুরির জন্য তাকে অভিনন্দন জানান এবং আকবর আলির ব্যাটিংয়েরও প্রশংসা করেন। তার মতে, এভাবে ধারাবাহিকভাবে পারফরম্যান্স করতে পারলে নির্বাচকরা অবশ্যই বিষয়টি বিবেচনায় নেবেন।

বিসিএলে অংশ নেওয়া ক্রিকেটারদের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়েও আশাবাদ ব্যক্ত করেন বাংলাদেশের সাবেক এই অধিনায়ক। তিনি জানান, এবারের আসরে অংশ নেওয়া প্রায় ৬০ জন ক্রিকেটারেরই জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সামনের দুই বছরে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সূচিতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক টেস্ট, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি ম্যাচ রয়েছে। ফলে দল ব্যবস্থাপনায় রোটেশন নীতি অনুসরণ করার প্রয়োজন হতে পারে। সে ক্ষেত্রে ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সই খেলোয়াড়দের জাতীয় দলে অন্তর্ভুক্তির প্রধান ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।

বাংলাদেশ ক্রিকেটের প্রেক্ষাপটে বিসিএলকে দীর্ঘদিন ধরেই প্রতিভা যাচাইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বিশেষ করে জাতীয় দলের বাইরে থাকা বা নতুনদের জন্য এটি নিজেকে প্রমাণের সুযোগ তৈরি করে। ওয়ানডে ফরম্যাটে আয়োজিত এবারের আসর খেলোয়াড়দের সীমিত ওভারের ক্রিকেটে সামর্থ্য যাচাইয়ের ক্ষেত্র তৈরি করেছে। নির্বাচকরা সাধারণত এমন টুর্নামেন্টের পারফরম্যান্সকে গুরুত্ব দিয়ে থাকেন, কারণ এখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তুলনামূলকভাবে বেশি এবং অভিজ্ঞ ও তরুণ ক্রিকেটারদের সমন্বয় দেখা যায়।

জাতীয় দলের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর সাম্প্রতিক ফর্ম নিয়েও ইতিবাচক মন্তব্য করেন আশরাফুল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, শান্ত বর্তমানে ভালো ছন্দে রয়েছেন এবং নিজের ব্যাটিং পরিকল্পনা সম্পর্কে সচেতন। ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতায় তার শতকের ইনিংসের প্রসঙ্গ টেনে আশরাফুল আশা প্রকাশ করেন যে, সামনে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতেও তিনি একই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সক্ষম হবেন।

সামগ্রিকভাবে গ্রুপপর্ব শেষে বিসিএলের পারফরম্যান্স মূল্যায়নে দেখা যাচ্ছে, তরুণ ও অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের মধ্যে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি পেয়েছে। জাতীয় দলের সামনে ব্যস্ত সূচি থাকায় নির্বাচকদের জন্য বিকল্প খেলোয়াড় প্রস্তুত রাখা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই প্রেক্ষাপটে জিসান আলম ও আকবর আলির মতো ক্রিকেটারদের সাম্প্রতিক সাফল্য ভবিষ্যতের দল গঠনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

খেলাধূলা শীর্ষ সংবাদ