আইন আদালত ডেস্ক
রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধারের আলোচিত ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। রোববার (১ মার্চ) দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হবে বলে জানানো হয়েছে।
ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপকমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান রোববার সকালে ঘাতক গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, রাজধানীতে খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় দায়ীদের শনাক্ত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিবিড় তদন্ত চালায় এবং সেই তদন্তের সূত্র ধরেই মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তির পরিচয় ও হত্যার পেছনের কারণ সম্পর্কে সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানানো হবে।
তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নিহত ব্যক্তির নাম ওবায়দুল্লাহ। তিনি নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার বাসিন্দা। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, হত্যার পর তার মরদেহ সাতটি খণ্ডে বিভক্ত করে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ফেলে দেওয়া হয়, যাতে ঘটনাটি শনাক্ত ও তদন্ত জটিল হয়ে পড়ে। ধারাবাহিক অনুসন্ধান ও গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে পুলিশ এ পর্যন্ত মরদেহের ছয়টি খণ্ড উদ্ধার করেছে।
সর্বশেষ উদ্ধার হওয়া খণ্ডটি সাভারের আমিনবাজার এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়। ঢাকা মহানগর পুলিশের মতিঝিল বিভাগের উপকমিশনার হারুন অর রশিদ জানান, ভোরের দিকে অভিযান চালিয়ে আমিনবাজার থেকে দেহের আরও একটি অংশ উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি বলেন, মরদেহের বাকি অংশ উদ্ধারের প্রক্রিয়াও প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মরদেহের খণ্ডগুলো রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রাখা হয়েছিল। প্রতিটি স্থান থেকে আলামত সংগ্রহ করে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। উদ্ধার হওয়া অংশগুলোর ডিএনএ পরীক্ষা ও অন্যান্য বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের সময়, স্থান ও ব্যবহৃত উপকরণ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।
তদন্তকারীরা বলছেন, মরদেহ খণ্ডিত করে ভিন্ন ভিন্ন স্থানে ফেলে রাখার পেছনে উদ্দেশ্য ছিল তদন্ত বিভ্রান্ত করা এবং অপরাধের চিহ্ন আড়াল করা। তবে সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল ফোনের কল ডেটা রেকর্ড, প্রযুক্তিগত নজরদারি এবং গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়। পরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হবে। তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, হত্যার পেছনে ব্যক্তিগত বিরোধ, আর্থিক লেনদেন বা অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা বলেন, রাজধানীতে এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ড জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং সন্দেহজনক গতিবিধি সম্পর্কে তথ্য পেলে দ্রুত পুলিশকে জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
ডিএমপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষে হত্যাকাণ্ডের পেছনের কারণ, ঘটনার সময়রেখা এবং অভিযুক্তের ভূমিকা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে। মামলার অগ্রগতির বিষয়েও পর্যায়ক্রমে গণমাধ্যমকে অবহিত করা হবে।


