ঈদযাত্রায় অনলাইনে অগ্রিম ট্রেনের টিকিট বিক্রি শুরু, শতভাগ ই-টিকিট ব্যবস্থা

ঈদযাত্রায় অনলাইনে অগ্রিম ট্রেনের টিকিট বিক্রি শুরু, শতভাগ ই-টিকিট ব্যবস্থা

বাংলাদেশ ডেস্ক

আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঘরমুখো যাত্রীদের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে অনলাইনে অগ্রিম ট্রেনের টিকিট বিক্রি শুরু করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। মঙ্গলবার (৪ মার্চ) থেকে এ কার্যক্রম চালু হয়েছে। ঈদ উপলক্ষে আন্তঃনগর ট্রেনের শতভাগ টিকিট অনলাইনে বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে পশ্চিমাঞ্চলে চলাচলরত আন্তঃনগর ট্রেনগুলোর টিকিট বিক্রি শুরু হচ্ছে। একইভাবে, দুপুর ২টা থেকে পূর্বাঞ্চলে চলাচলরত সব আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট অনলাইনে উন্মুক্ত করা হচ্ছে। নির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী যাত্রীরা ভ্রমণের ১০ দিন আগে সংশ্লিষ্ট দিনের টিকিট সংগ্রহ করতে পারছেন।

বুধবার (৪ মার্চ) যারা টিকিট সংগ্রহ করছেন, তারা ১৪ মার্চের ভ্রমণের জন্য টিকিট পাচ্ছেন। রেলওয়ের ঘোষণা অনুযায়ী, ১৪ মার্চের টিকিট ৪ মার্চ, ১৫ মার্চের টিকিট ৫ মার্চ, ১৬ মার্চের টিকিট ৬ মার্চ, ১৭ মার্চের টিকিট ৭ মার্চ, ১৮ মার্চের টিকিট ৮ মার্চ এবং ১৯ মার্চের টিকিট ৯ মার্চ বিক্রি করা হবে। নির্ধারিত সময়ের পর টিকিট আর পাওয়া যাবে না বলে জানানো হয়েছে।

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঈদযাত্রাকে কেন্দ্র করে অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ সামাল দিতে এবং টিকিট কেনাবেচায় অনিয়ম রোধে শতভাগ অনলাইন টিকিটিং ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়েছে। ফলে কাউন্টার থেকে সরাসরি টিকিট বিক্রি করা হবে না। যাত্রীদের জাতীয় পরিচয়পত্র বা নিবন্ধিত তথ্য ব্যবহার করে নির্ধারিত অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ করে টিকিট সংগ্রহ করতে হচ্ছে।

প্রতি যাত্রী নির্দিষ্ট সংখ্যক টিকিট ক্রয়ের সুযোগ পাচ্ছেন এবং একাধিকবার বুকিং বা অসাধু উপায়ে টিকিট সংগ্রহ ঠেকাতে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি জোরদার করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। অনলাইন সার্ভারে অতিরিক্ত চাপ এড়াতে নির্দিষ্ট সময় ভাগ করে টিকিট ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে একযোগে বিপুলসংখ্যক ব্যবহারকারীর প্রবেশের ফলে জটিলতা কমে।

বাংলাদেশে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে প্রতিবছর লাখো মানুষ রাজধানীসহ বিভিন্ন নগর এলাকা থেকে নিজ নিজ জেলায় যাত্রা করেন। এ সময় ট্রেন অন্যতম জনপ্রিয় ও সাশ্রয়ী পরিবহন হওয়ায় টিকিটের চাহিদা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। অতীতে টিকিটের কালোবাজারি, ভোগান্তি ও দীর্ঘ লাইনের অভিযোগ ওঠায় ধাপে ধাপে অনলাইন টিকিটিং ব্যবস্থার বিস্তার ঘটানো হয়।

রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, যাত্রীদের সুবিধার্থে সার্ভার সক্ষমতা বাড়ানো এবং গ্রাহক সহায়তা সেবা জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যাত্রীরা নির্ধারিত সময়ের আগে অনলাইন অ্যাকাউন্ট হালনাগাদ করে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে টিকিট ছাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত বুকিং সম্পন্ন করা যায়।

ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে ট্রেন পরিচালনা, সময়সূচি মেনে চলা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, অনলাইনভিত্তিক শতভাগ টিকিট বিক্রির ফলে যাত্রীদের ভোগান্তি কমবে এবং স্বচ্ছতার মাধ্যমে টিকিট ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ