চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে সীডলেস আঙ্গুর চাষে উদ্ভাবনী উদ্যোগ

চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে সীডলেস আঙ্গুর চাষে উদ্ভাবনী উদ্যোগ

জাতীয় ডেস্ক

চুয়াডাঙ্গার জীবননগরের কৃষি উদ্যোক্তা মো. রুহুল আমিন তার খামারে উৎপাদিত দুই প্রজাতির সীডলেস আঙ্গুর কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদকে উপহার দিয়েছেন। মঙ্গলবার সচিবালয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ে আঙ্গুর উপস্থাপন অনুষ্ঠানে রুহুল আমিন নিজ বাগানের ফল সরাসরি মন্ত্রীর হাতে তুলে দেন।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, দেশে বাণিজ্যিকভাবে আঙ্গুর চাষের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে, বিশেষ করে জলবায়ু উপযোগী উন্নত প্রজাতির ফল উৎপাদনের ক্ষেত্রে উদ্যোক্তাদের অগ্রগতি কৃষিখাতে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে। তিনি রুহুল আমিনের উদ্যোগকে প্রশংসা করে সরকার উচ্চমূল্যের ফল চাষে প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা এবং নীতিগত সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে বলে আশ্বাস দেন।

রুহুল আমিন দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে জীবননগরে তার প্রতিষ্ঠিত ‘রুহুল এগ্রো লিমিটেড’ এবং ‘গ্রীণ প্লানেট এগ্রো’ খামারে ইউরোপ ও এশিয়ার বিভিন্ন আঙ্গুরের পরীক্ষামূলক চাষ পরিচালনা করছেন। আধুনিক প্রযুক্তি ও যথাযথ জাত নির্বাচনের মাধ্যমে তিনি স্থানীয় আবহাওয়ায় সাফল্যের সঙ্গে বীজবিহীন আঙ্গুর উৎপাদনে সক্ষম হয়েছেন।

কৃষি বিশেষজ্ঞরা জানান, দেশে আঙ্গুরের চাহিদার অধিকাংশই আমদানির উপর নির্ভরশীল। স্থানীয়ভাবে মানসম্মত আঙ্গুর উৎপাদন বৃদ্ধি পেলে আমদানি ব্যয় কমবে এবং কৃষকদের জন্য নতুন বাজারও সৃষ্টির সম্ভাবনা থাকবে।

রুহুল আমিন জানান, সঠিক প্রযুক্তি এবং বাজার সংযোগ নিশ্চিত করা গেলে দেশে বাণিজ্যিকভাবে উন্নত প্রজাতির আঙ্গুর উৎপাদন দ্রুত সম্প্রসারণ সম্ভব। তিনি ভবিষ্যতে বৃহৎ পরিসরে চাষ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রেখেছেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চুয়াডাঙ্গার অনুকূল আবহাওয়া উচ্চমূল্যের ফল চাষের সম্ভাবনাকে আরও বৃদ্ধি করেছে। স্থানীয় উদ্যোক্তাদের এ ধরনের উদ্যোগ কৃষিতে নতুন উদ্ভাবন ও উন্নয়নের পথ তৈরি করছে, যা দীর্ঘমেয়াদে অঞ্চলটির অর্থনৈতিক বিকাশেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ