খেলাধূলা ডেস্ক
আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তান দলের হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর দলের কিছু খেলোয়াড়ের ওপর অর্থনৈতিক শাস্তি আরোপের বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক শহীদ আফ্রিদি সম্প্রতি এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে বলেন, শুধুমাত্র অর্থ জরিমানা দিয়ে সমস্যার সমাধান হবে না এবং জাতীয় দলের দুর্বল পারফরম্যান্সের ক্ষেত্রে কাঠামোগত পরিবর্তন প্রয়োজন।
আফ্রিদি বলেন, যারা প্রত্যাশিত মানদণ্ডে খেলা দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে, তাদের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ফিরে যাওয়া উচিত। প্রয়োজনে জাতীয় দল থেকে কিছু সময়ের জন্য দূরে রাখা প্রয়োজন। তিনি বলেন, “৫ মিলিয়ন রুপি জরিমানা নিয়ে অতিরিক্ত আলোচনা করার কিছু নেই। যাদের পারফরম্যান্স হতাশাজনক, তাদের অন্তত দুই বছর জাতীয় দলে না খেলানোও ফলপ্রসূ হতে পারে। দলের মধ্যে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা জরুরি।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, দলের কিছু খেলোয়াড়ের বিশ্রাম প্রয়োজন হলে তা দেওয়া উচিত। একই সঙ্গে আফ্রিদি জানান, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) এখনও এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি।
সাংবাদিক সূত্রে জানা গেছে, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড বিশ্বকাপের ব্যর্থতার পর খেলোয়াড়দের প্রত্যেকের ওপর প্রায় ৫০ লাখ রুপি পর্যন্ত জরিমানা আরোপের বিষয়টি বিবেচনা করছে। তবে এই জরিমানা সবাইকে সমানভাবে প্রযোজ্য নাও হতে পারে। খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে শাস্তির পরিমাণ নির্ধারণ করা হতে পারে।
পাকিস্তান জাতীয় দল ২০০৯ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতেছিল। তবে চলতি টুর্নামেন্টে তারা সুপার এইট পর্ব থেকেই প্রতিযোগিতা থেকে বিদায় নেয়। শেষ ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জয় সত্ত্বেও পূর্ণ সদস্য দলের বিরুদ্ধে এটি তাদের একমাত্র জয় হিসেবে রেকর্ডে উঠে। এর আগে তারা ভারত ও ইংল্যান্ডের কাছে হেরেছিল, এবং নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটি বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হয়।
ফলে পাকিস্তান দল টানা দ্বিতীয়বারের মতো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে উঠতে ব্যর্থ হলো। এর আগে ২০২২ সালে তারা ফাইনালে উঠে রানার্সআপ হয়েছিল।
বিশ্বকাপের হতাশা কাটিয়ে পাকিস্তান এখন বাংলাদেশের সঙ্গে আসন্ন সিরিজের প্রস্তুতি নেবে। আগামী ১১ থেকে ১৫ মার্চ ঢাকায় তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে দুই দল মুখোমুখি হবে। সিরিজটি পাকিস্তান দলের জন্য নিজেকে পুনর্গঠনের এবং বিশ্বকাপ ব্যর্থতার প্রভাব কাটিয়ে ওঠার গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


