আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় মিনাব শহরের একটি মেয়েদের বিদ্যালয়ে হামলায় অন্তত ১৬৫ শিক্ষার্থী ও কর্মী নিহত হওয়ায় তেহরানে মঙ্গলবার একটি গণজানাজার আয়োজন করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের সম্প্রচারে দেখা গেছে, মিনাবের উন্মুক্ত চত্বরে হাজারো মানুষ সমবেত হন। অনুষ্ঠানে পুরুষরা ইসলামিক রিপাবলিকের পতাকা হাতে স্লোগান দেন, আর কালো চাদর পরা নারীরা আলাদা অংশে অবস্থান নেন। নিহতদের স্মরণে মঞ্চে ‘আতেনা’ নামের এক কিশোরীর মা ছবি সংবলিত পোস্টার তুলে ধরেন।
ইরানি কর্মকর্তারা হামলাটিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ আক্রমণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, ১৬০-এর বেশি কিশোরী মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছেন। তিনি জানান, দেশজুড়ে হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও বিমান হামলার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আবাসিক এলাকা, হাসপাতাল, স্কুল, রেড ক্রিসেন্ট স্থাপনা ও সাংস্কৃতিক নিদর্শনে হামলা চালাচ্ছে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী হামলার সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই বলে জানিয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, যুক্তরাষ্ট্র ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো স্কুলকে লক্ষ্যবস্তু করে না এবং চলমান সামরিক অভিযানে বেসামরিক হতাহতের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সাংবাদিকদের বলেন, যদি যুক্তরাষ্ট্রের কোনো হামলার সঙ্গে এই ঘটনা সম্পর্কিত হয়, তবে তা তদন্তের আওতায় আসবে।
জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ইউনেস্কো এবং নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী শিক্ষা অধিকারকর্মী মালালা ঈউসুফজাঈ হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে। দপ্তরের মুখপাত্র রাভিনা শামদাসানি বলেন, সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত ছবি থেকে ধ্বংসযজ্ঞ ও মানবিক বিপর্যয়ের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের অধীনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও অন্য কোনো বেসামরিক স্থাপনায় ইচ্ছাকৃত হামলাকে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়। জাতিসংঘের শান্তি নির্মাণবিষয়ক আন্ডার-সেক্রেটারি-জেনারেল রোজমেরি ডিকার্লো জানান, ইরানের পক্ষ থেকে প্রাপ্ত মৃত্যুর খবর তারা পর্যবেক্ষণ করছে এবং যুক্তরাষ্ট্রও বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।
হামলার প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্বেগ বৃদ্ধি পেতে পারে এবং বিষয়টি বৈশ্বিক কূটনৈতিক আলোচনা ও মানবাধিকার পর্যবেক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। ইরান ও পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যকার চলমান রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং সামরিক কর্মকাণ্ডের প্রভাবের মধ্যে বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা এখন গুরত্বপূর্ণ মানবিক ও কূটনৈতিক ইস্যু হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


