ঈদুল ফিতরে সরকারি ছুটি বাড়িয়ে টানা সাত দিন করার প্রস্তাব

ঈদুল ফিতরে সরকারি ছুটি বাড়িয়ে টানা সাত দিন করার প্রস্তাব

বাংলাদেশ ডেস্ক

আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সরকারি ছুটি পাঁচ দিনের পরিবর্তে বাড়িয়ে টানা সাত দিন করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানা গেছে, নির্বাহী আদেশে ১৮ মার্চ অতিরিক্ত একদিন ছুটি ঘোষণা করার প্রস্তাব প্রস্তুত করা হয়েছে। মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদন মিললে ঈদের ছুটি ১৯ থেকে ২৩ মার্চ নির্ধারিত পাঁচ দিনের সঙ্গে ১৮ মার্চ যুক্ত হয়ে মোট সাত দিনে উন্নীত হবে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ঈদ উপলক্ষে রাজধানী ও অন্যান্য বড় শহর থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ গ্রামের বাড়িতে যাতায়াত করেন। যাত্রীচাপ ও ভ্রমণসংক্রান্ত চাপ কমানো এবং সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে এ প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, ১৬ মার্চ অফিস কার্যক্রম শেষে সরকারি চাকরিজীবীদের ঈদকালীন ছুটি শুরু হতে পারে।

সরকার ইতোমধ্যে ১৯ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত পাঁচ দিনের সাধারণ ছুটি নির্ধারণ করে রেখেছে। এর আগে ১৭ মার্চ শবে কদর উপলক্ষে সরকারি ছুটি রয়েছে। মাঝখানে ১৮ মার্চ নির্বাহী আদেশে ছুটি ঘোষণা করা হলে ১৭ মার্চ থেকে শুরু করে ২৩ মার্চ পর্যন্ত টানা সাত দিনের ছুটি কার্যকর হবে। এতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা একটানা ছুটির সুযোগ পাবেন।

সূত্রগুলো আরও জানায়, ১৮ মার্চ ছুটি ঘোষণার প্রস্তাব জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রস্তুত করে মন্ত্রিসভার অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে। মন্ত্রিসভার সম্মতি পেলে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারিত হয়। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি দেশে পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ দেখা যায় এবং ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে রোজা শুরু হয়। সে হিসেবে ৩০ রোজা পূর্ণ হলে আগামী ২১ মার্চ ঈদুল ফিতর উদযাপিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে চূড়ান্ত তারিখ নির্ভর করবে চাঁদ দেখার ওপর।

প্রতি বছর ঈদকে কেন্দ্র করে সড়ক, রেল ও নৌপথে যাত্রীচাপ বৃদ্ধি পায়। সরকারি ও বেসরকারি খাতে কর্মরত বিপুলসংখ্যক মানুষ একই সময়ে রাজধানী ছাড়েন, ফলে পরিবহন ব্যবস্থায় অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়। দীর্ঘ ছুটি থাকলে যাত্রীরা সময় ভাগ করে ভ্রমণের সুযোগ পান, যা যানজট ও ভোগান্তি কমাতে সহায়ক হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

অতীতে বিভিন্ন সময়ে বিশেষ পরিস্থিতিতে নির্বাহী আদেশে অতিরিক্ত ছুটি ঘোষণা করার নজির রয়েছে। সরকারি ছুটি সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত সাধারণত মন্ত্রিসভার অনুমোদনের ভিত্তিতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন আকারে প্রকাশ করে। এ ক্ষেত্রেও একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে বলে জানা গেছে।

ঈদুল ফিতর মুসলমানদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। রমজান মাসব্যাপী সিয়াম সাধনার পর শাওয়াল মাসের প্রথম দিন এ উৎসব উদযাপিত হয়। বাংলাদেশে ঈদকে কেন্দ্র করে পরিবার-পরিজনের সঙ্গে সময় কাটানো, সামাজিক যোগাযোগ ও গ্রামে ফেরার ঐতিহ্য দীর্ঘদিনের। এ প্রেক্ষাপটে ছুটির সময়সীমা বৃদ্ধি সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত জনজীবনে তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

সরকারি সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হলে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ