দেশে ফেব্রুয়ারিতে ৩০২ কোটি ৭ লাখ ৬০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স প্রবাহিত

দেশে ফেব্রুয়ারিতে ৩০২ কোটি ৭ লাখ ৬০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স প্রবাহিত

অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক

ফেব্রুয়ারি ২০২৬ মাসে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে ৩০২ কোটি ৭ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের বুধবার (৪ মার্চ) প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রেমিট্যান্সের প্রধান উৎস হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরবের প্রবাসীরা শীর্ষে রয়েছেন।

সৌদি আরব থেকে ফেব্রুয়ারিতে দেশে পাঠানো রেমিট্যান্সের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৯ কোটি ১১ লাখ মার্কিন ডলার। এছাড়া শীর্ষ ১০ দেশের মধ্যে যুক্তরাজ্য, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি, ওমান, কুয়েত, সিঙ্গাপুর এবং কাতার রয়েছে। যুক্তরাজ্য থেকে এসেছে ৪৪ কোটি ৩৩ লাখ ৯০ হাজার ডলার, সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ৩৭ কোটি ৪৫ লাখ ৪০ হাজার ডলার, মালয়েশিয়া থেকে ৩১ কোটি ৭৭ লাখ ৪০ হাজার ডলার, যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২৭ কোটি ৬৩ লাখ ৬০ হাজার ডলার, ওমান থেকে ১৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার, ইতালি থেকে ১৬ কোটি ২ লাখ ৯০ হাজার ডলার, কুয়েত থেকে ১৪ কোটি ৮১ লাখ ২০ হাজার ডলার, সিঙ্গাপুর থেকে ১৪ কোটি ৫৭ লাখ ৯০ হাজার ডলার এবং কাতার থেকে ১২ কোটি ৫৮ লাখ ৯০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স এসেছে।

রেমিট্যান্সের ব্যাংকভিত্তিক বণ্টন অনুযায়ী, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ৪২ কোটি ৬০ লাখ ৮০ হাজার ডলার, বিশেষায়িত ব্যাংকের মাধ্যমে ৪৫ কোটি ২৫ লাখ ৭০ হাজার ডলার, বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে ২১৫ কোটি ৬৯ লাখ ৫০ হাজার ডলার এবং বিদেশি খাতের ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ৪৮ লাখ ১০ হাজার ডলার।

এর আগে জানুয়ারিতে দেশে রেকর্ড পরিমাণ রেমিট্যান্স এসেছে, যা ইতিহাসে কোনো এক মাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ এবং চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। জানুয়ারি মাসে ৩১৭ কোটি ৯ লাখ ৪০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স প্রবাহিত হয়েছিল।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রবাসী কর্মীদের এই প্রবাহ দেশের বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভকে শক্তিশালী রাখার পাশাপাশি দেশে ভোগ্যপণ্য, বিনিয়োগ এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রমে অবদান রাখছে। চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রবাসীরা দেশে মোট ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন ডলার বা ৩ হাজার ৩২ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন, যা দেশের ইতিহাসে কোনো এক অর্থবছরে সর্বোচ্চ রেকর্ড।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এই পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের প্রবাসী কর্মীরা দেশের বৈদেশিক আয় বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। বিশেষ করে সৌদি আরব, যুক্তরাজ্য এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে প্রাপ্ত রেমিট্যান্স দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

রেমিট্যান্স প্রবাহের ধারাবাহিকতা এবং তার উৎসের বৈচিত্র্য দেশের অর্থনীতিতে সরাসরি প্রভাব ফেলছে। এই প্রবাহ কেবলমাত্র পরিবারের সঞ্চয় ও ভোগ্যপণ্যে নয়, বরং বৈদেশিক বিনিয়োগ, ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা এবং রূপান্তরমূলক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্যও সহায়ক। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো এই রেমিট্যান্স ব্যবস্থাপনায় কার্যকর ভূমিকা পালন করছে, যার ফলে বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং দেশের সমষ্টিগত অর্থনৈতিক সক্ষমতা শক্তিশালী হচ্ছে।

অর্থ বাণিজ্য শীর্ষ সংবাদ