অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলার কারণে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি সরবরাহে বাধা সৃষ্টি হওয়ায় বিশ্ব বাজারে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন জ্বালানিবিষয়ক অর্থনীতিবিদ এড হির্স।
ইউনিভার্সিটি অব হিউস্টনের প্রভাষক হির্স জানিয়েছেন, যদি হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাওয়া তেলের অর্ধেক সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায় এবং যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী ও তেলবাহী ট্যাঙ্কারগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর না থাকে, তাহলে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১৫০ ডলারে পৌঁছাতে পারে। তিনি এ অবস্থার প্রভাব ইতোমধ্যেই তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) বাজারে দেখতে পাচ্ছেন। প্রথম দিনেই এলএনজি’র দাম ৪০ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। সোমবার থেকে মঙ্গলবারের মধ্যে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।
এড হির্স আরও জানিয়েছেন, ডিজেলের দামও অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। গ্যাসনির্ভর কিছু দেশ পেট্রোলিয়াম কেনার পরিমাণ বাড়াচ্ছে, যা ভবিষ্যতে সরবরাহ চাহিদার ওপর প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইংল্যান্ড অঙ্গরাজ্যগুলোতে এই পরিস্থিতির প্রভাব বেশি পড়তে পারে। তিনি সতর্ক করেছেন, এমন প্রেক্ষাপটে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অবস্থান বজায় রাখা জটিল হতে পারে, বিশেষ করে মধ্যবর্তী নির্বাচনের সময়।
এদিকে, ইরানে মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলা শুরু হওয়ার পর হরমুজ প্রণালীতে তেলবাহী ট্যাঙ্কারের চলাচল প্রায় ৯০ শতাংশ কমে গেছে বলে বুধবার (৪ মার্চ) আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা কেপলার জানিয়েছে। বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। ইরানের সামরিক কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, তারা এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছেন।
কেপলারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই দাবি পুরোপুরি সত্য নয়; কিছু জাহাজ এখনও অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে এই বিপজ্জনক পথ দিয়ে চলাচল করছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, যদি এই অস্থিরতা দীর্ঘায়িত হয়, তাহলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে মূল্য ওঠানামা এবং সরবরাহ সংকট আরও তীব্র হতে পারে।
বিশ্ববাজারে তেলের এমন অস্থিরতা কেবল জ্বালানি মূল্য নয়, সমগ্র আন্তর্জাতিক অর্থনীতির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। উচ্চ মূল্য প্রাকৃতিক গ্যাস এবং ডিজেল নির্ভর শিল্প ও পরিবহণ খাতের খরচ বাড়াতে পারে, যা গৃহস্থালি ও বাণিজ্যিক খরচে প্রভাব ফেলতে পারে। এছাড়াও, এই পরিস্থিতি জ্বালানি নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক সামরিক নীতির সঙ্গে জড়িত ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনাকে আরও জটিল করতে পারে।


