রাজনীতি ডেস্ক
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নেতৃবৃন্দের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুর–এর নির্ধারিত বৈঠক স্থগিত করা হয়েছে। বুধবার (৪ মার্চ) রাতে দলের দপ্তর সেল থেকে পাঠানো এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।
বার্তায় উল্লেখ করা হয়, বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সকাল ১০টায় মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে এনসিপি নেতৃবৃন্দের যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল, তা অনিবার্য কারণে স্থগিত করা হয়েছে। তবে বৈঠক স্থগিতের সুনির্দিষ্ট কারণ বা পরবর্তী সম্ভাব্য তারিখ সম্পর্কে বার্তায় কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।
এর আগে মঙ্গলবার (৩ মার্চ) রাত ৮টার পর দুই দিনের সফরে দিল্লি হয়ে ঢাকায় পৌঁছান পল কাপুর। দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক দায়িত্বপ্রাপ্ত মার্কিন এই কূটনীতিকের সফরকে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। সাধারণত এ ধরনের সফরে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, আঞ্চলিক নিরাপত্তা, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া, মানবাধিকার, অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও কৌশলগত বিষয়গুলো আলোচনায় গুরুত্ব পায়।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, সফরকালে তিনি সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও অন্যান্য অংশীজনদের সঙ্গে বৈঠক করতে পারেন। যদিও সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সব বৈঠকের সময়সূচি প্রকাশ করা হয়নি, তবুও রাজনৈতিক অঙ্গনে এই সফরকে ঘিরে আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
এনসিপির সঙ্গে নির্ধারিত বৈঠকটি স্থগিত হওয়ায় সফরসূচিতে কোনো পরিবর্তন আসবে কি না, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কিছু জানানো হয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, কূটনৈতিক সফরে সময়সূচির পরিবর্তন অস্বাভাবিক নয় এবং পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে বৈঠক পুনর্নির্ধারণ করা হতে পারে।
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন ইস্যুতে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। বাণিজ্য, উন্নয়ন সহযোগিতা, নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক ভূরাজনীতি—এসব বিষয় দুই দেশের সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অগ্রাধিকার এবং বাংলাদেশের ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্বের কারণে এ ধরনের উচ্চপর্যায়ের সফরকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হয়।
এনসিপির পক্ষ থেকে বৈঠক স্থগিতের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হলেও, পরবর্তী সময়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে কি না, সে বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট ঘোষণা দেওয়া হয়নি। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলমান রয়েছে।


