বিনোদন ডেস্ক
ঢাকা: শোবিজ জগতের আলোচিত ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে ছোট পর্দার অভিনেত্রী তানজিন তিশা ও সহঅভিনেত্রী সামিয়া অথৈর মধ্যে সংঘর্ষের অভিযোগ। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক লাইভে এসে অথৈ জানান, নাটকের একটি দৃশ্যের শুটিংয়ের সময় স্ক্রিপ্টের বাইরে গিয়ে তিশা তাকে প্রকাশ্যে চড় থাপ্পড় মারেন।
অথৈ জানান, নাটকের একটি দৃশ্যে তাকে তিশাকে চড় মারার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল এবং তিনি আলতোভাবে তা করেন। তবে, অভিযোগ অনুসারে, শুটিং সেটে তিশা তাঁকে পাল্টা চড় মেরে এবং একের পর এক আঘাত করেন। ঘটনার পর অভিনেত্রী অথৈ শুটিং ছেড়ে ঢাকায় ফিরে আসেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, আগের দিনও শুটিংয়ের সময় হাতে আঘাতের শিকার হয়েছেন এবং এই ধরণের আচরণ তিনি আর সহ্য করতে পারছেন না।
অথৈ আরও অভিযোগ করেন, তিশার আচরণ কেবল শুটিং সীমার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। তিনি বলেন, তিশা শুটিং সেটে থাকাকালীন সময়ে বাথরুমে দীর্ঘ সময় আটকা থাকতেন এবং তাঁর গা থেকে অস্বাভাবিক গন্ধ বের হতো। তিনি মন্তব্য করেন, ‘আমি জানি না উনি আসলে কিছু খেয়েছেন কি না। কারণ গতকালও খারাপ আচরণ করেছেন। ৪০-৫০ মিনিট ধরে বাথরুমের মধ্যে আটকা থাকতেন। কি খায় না খায় আমি জানি না, ওনার গা থেকে গন্ধ আসে। কেমন যেন পাগলের মতো আচরণ করছেন।’
অথৈর অভিযোগের পর তানজিন তিশা বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি বলেন, শুটিংয়ের পরিস্থিতি অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং ছিল। তিনি সারাদিন মাটির, বালুর ও নদীর মধ্যে থাকতে হয়েছে এবং শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছিল। এই কঠিন পরিবেশে একজন নারী শিল্পী হিসেবে অন্য একজন নারী শিল্পীর শারীরিক অবস্থার বিষয়ে এমন মন্তব্য করা তাঁর কাছে অত্যন্ত দুঃখজনক মনে হয়েছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘আমি শুধু এটাই বলব, যা যা বলা হয়েছে তা পুরোপুরি একটি ব্যক্তিগত আক্রমণ ছাড়া আর কিছুই নয়।’
শুটিং সেটে সহঅভিনেত্রীর সঙ্গে সংঘর্ষের এই ঘটনার কারণে নেটিজেনদের মধ্যে আলোচনার পাশাপাশি বিনোদন জগতেও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে নাট্যকার, পরিচালক ও সংশ্লিষ্ট প্রযোজনা সংস্থার প্রতিক্রিয়া এখনও জানা যায়নি। তবে এই ধরনের ঘটনা শোবিজ প্রফেশনালদের নিরাপত্তা ও শুটিংয়ের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও প্রযোজনা সংস্থা কী পদক্ষেপ নেবেন, তা বিনোদন দুনিয়ার নজর কাড়েছে। শিল্পী অধিকার ও শুটিং সেটের শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য প্রযোজক ও সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকার পরামর্শ বিশেষজ্ঞরা দিয়েছেন।


