আন্তর্জাতিক ডেস্ক
লেবাননভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর নেতা নাইম কাসেম সোমবার প্রকাশ্যভাবে বলেছেন, ইরান সমর্থিত এই সংগঠন ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাতে আত্মসমর্পণ করবে না। এ বক্তব্য তিনি দেওয়ার সময়ে লেবাননে আঞ্চলিক সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার পরিস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
কাসেম বলেন, হিজবুল্লাহ ২০২৪ সালের শেষের দিকে হওয়া যুদ্ধবিরতির চুক্তি মেনে চলছিল। তবে তার অভিযোগ, ইসরায়েল চুক্তির কোনো শর্ত পালন করেনি। তিনি টেলিভিশনে এক ভাষণে উল্লেখ করেন, “আমরা কূটনৈতিক সমাধানে সম্মত হয়েছিলাম এবং এটিকে রাষ্ট্রের দায়িত্ব পালনের একটি সুযোগ হিসেবে দেখেছিলাম। কিন্তু বারবার বলেছি, ধৈর্যেরও সীমা আছে।” তিনি আরও জানান, হিজবুল্লাহ তাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ইসরায়েলের মোকাবিলা করবে, চরম ত্যাগের বিনিময়ে সীমার শেষ প্রান্ত পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাবে এবং কখনো আত্মসমর্পণ করবে না।
হিজবুল্লাহর এই ঘোষণার একদিন আগে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। খামেনির মৃত্যুর পরপরই হিজবুল্লাহ রকেট ও ড্রোন ব্যবহার করে ইসরায়েলে হামলা চালায়।
ইসরায়েল এই হামলার প্রতিক্রিয়ায় ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়ে দক্ষিণ লেবাননে সেনা মোতায়েন করেছে। এ সংঘাতের কারণে লাখ লাখ সাধারণ মানুষ তাদের ঘরবাড়ি ত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা আশঙ্কা করছেন, এই সংঘাত যদি দীর্ঘায়িত হয়, তবে পুরো অঞ্চলজুড়ে মানবিক পরিস্থিতি আরও সংকটাপন্ন হয়ে উঠতে পারে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হিজবুল্লাহর অবস্থান এবং ইসরায়েলের প্রতিক্রিয়া মধ্যপ্রাচ্যে বিদ্যমান শক্তির ভারসাম্যকে আরও জটিল করে তুলেছে। যুদ্ধবিরতি বা কূটনৈতিক সমাধান না হওয়ায় সাধারণ নাগরিকদের জীবনযাত্রা ও নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে দ্রুত শান্তি প্রক্রিয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন, যাতে আঞ্চলিক সংঘাত আরও বিস্তৃত রূপ না নেয়।
এছাড়াও, এই সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য রাষ্ট্রের নিরাপত্তা নীতির ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষত লেবানন ও ইসরায়েলের সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলোতে সেনা মোতায়েন ও আক্রমণ-প্রতিরোধ কর্মকাণ্ড চলার কারণে স্থানীয় অর্থনীতি ও নাগরিক জীবন ব্যাহত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থা ইতিমধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর জন্য সহায়তা প্রদান শুরু করেছে, কিন্তু সঙ্কট তীব্র হওয়ার ফলে তা যথেষ্ট পর্যাপ্ত নয়।
হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান এই উত্তেজনা বিশ্বব্যাপী কূটনৈতিক মহলে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আনা হলে মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা বিপন্ন হতে পারে।


