ইরান দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের জন্য প্রস্তুত, নতুন অস্ত্র ব্যবহারের ইঙ্গিত

ইরান দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের জন্য প্রস্তুত, নতুন অস্ত্র ব্যবহারের ইঙ্গিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরান দীর্ঘস্থায়ী সামরিক সংঘাতের জন্য প্রস্তুত রয়েছে এবং প্রয়োজনে এখনো পর্যন্ত ব্যবহার না করা উন্নত অস্ত্র ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে বলে জানিয়েছে দেশটির ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। একই সঙ্গে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে তেহরান কোনো যুদ্ধবিরতির অনুরোধ করছে না এবং ইরানের ভূখণ্ডে স্থল সামরিক অভিযান চালানো হলে তা মোকাবিলার জন্য দেশটি প্রস্তুত রয়েছে।

আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী মোহাম্মদ নায়েনি এক বিবৃতিতে জানান, চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরান সম্ভাব্য নতুন হামলার ঢেউ মোকাবিলায় সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করছে। তিনি বলেন, আসন্ন সামরিক পদক্ষেপে ইরানের শত্রুপক্ষের জন্য পরিস্থিতি কঠিন হয়ে উঠতে পারে এবং নতুন প্রযুক্তি ও অস্ত্র ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। নায়েনি আরও উল্লেখ করেন, এসব প্রযুক্তির অনেকগুলো এখনো বড় পরিসরে মোতায়েন করা হয়নি।

নায়েনির ভাষ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে ইরান তার প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও জোরদার করেছে। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে গত বছর সংঘটিত ১২ দিনের সামরিক উত্তেজনার সময়ের তুলনায় বর্তমানে ইরান আরও বেশি প্রস্তুত অবস্থায় রয়েছে। ওই সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হয়।

এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ইরান বর্তমানে কোনো ধরনের যুদ্ধবিরতির উদ্যোগ নিচ্ছে না। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমান পরিস্থিতিতে যুদ্ধবিরতির প্রশ্ন তেহরানের আলোচ্যসূচিতে নেই। তিনি আরও বলেন, ইরানের ভূখণ্ডে যদি কোনো বিদেশি স্থল সামরিক অভিযান পরিচালিত হয়, তবে সেখানে মোতায়েন করা বাহিনীকে প্রতিরোধ করার জন্য দেশটির সামরিক সক্ষমতা প্রস্তুত রয়েছে।

আরাগচি যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের ভূখণ্ডে স্থল সেনা মোতায়েন করে, তবে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। একই সঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, চলমান সংঘাতে শেষ পর্যন্ত কোনো পক্ষই প্রকৃত অর্থে বিজয়ী হবে না।

মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য স্থল সামরিক অভিযান নিয়ে এখনো পর্যন্ত স্পষ্ট অবস্থান জানানো হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিভিন্ন সময়ে এ বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন ইঙ্গিত দিয়েছেন বলে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের পর্যবেক্ষণ। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে সম্ভাব্য সামরিক উত্তেজনা নিয়ে কূটনৈতিক মহলে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিন ধরে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের মধ্যে উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্ক বিরাজ করছে। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, আঞ্চলিক ভূরাজনীতি এবং বিভিন্ন সামরিক জোটের কারণে এ অঞ্চলে সময়ে সময়ে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন সামরিক ও কূটনৈতিক বক্তব্যের মাধ্যমে সেই উত্তেজনা আবারও আলোচনায় এসেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে যে কোনো সামরিক উত্তেজনা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা, জ্বালানি বাজার এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথ এবং কৌশলগত অবস্থানের কারণে এই অঞ্চলের পরিস্থিতি বিশ্ব রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে ইরানের সামরিক প্রস্তুতি ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য অবস্থান নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়লে তা বৈশ্বিক কূটনীতি, নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদ