জাতীয় ডেস্ক
শুক্রবার (৬ মার্চ) রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় কূটনীতিকদের সম্মানে আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহযোগিতা ও আস্থার ভিত্তিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে। তিনি উল্লেখ করেন, দেশ সব সময় দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সম্পর্ককে সমানভাবে গুরুত্ব দেয়।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী সাংবাদিকদের জানান, অনুষ্ঠানটিতে ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও বিদেশি মিশনের প্রতিনিধি, মন্ত্রিসভার সদস্য এবং সংসদ সদস্যরা অংশ নেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই ইফতার কেবল একটি আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠান নয়, এটি বিভিন্ন জাতি, ধর্ম ও সংস্কৃতির মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সম্মান, সহমর্মিতা ও ঐক্যের গুরুত্বকে স্মরণ করিয়ে দেয়। তিনি বলেন, এই মূল্যবোধই একটি শান্তিপূর্ণ ও সহনশীল সমাজ গঠনের ভিত্তি।
শুধু কূটনৈতিক সম্পর্ক নয়, অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রেও সরকার নীতি প্রণয়নে মনোযোগ দিচ্ছে বলে প্রধানমন্ত্রী জানান। তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে ব্যবসা পরিচালনার পরিবেশ আরও সহজ করা, দায়িত্বশীল বিনিয়োগ আকর্ষণ করা এবং প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ গড়ে তোলা। তিনি আরও বলেন, জনগণ ও বেসরকারি খাতের পূর্ণ সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোই সরকারের অগ্রাধিকার।
তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি হবে বাস্তববাদী ও টেকসই, যা পারস্পরিক স্বার্থ, আস্থা এবং সার্বভৌমত্বের ভিত্তিতে ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব’ নীতি অনুসরণ করবে। তিনি দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় অংশীদারিত্বকে মূল্যায়ন করা এবং উন্মুক্ত আলোচনা ও শক্তিশালী সহযোগিতার জন্য আগ্রহী থাকার বিষয়েও উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকার আইনশৃঙ্খলা নিশ্চিত করা, সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং সমাজের সব স্তরে মানবসম্পদ উন্নয়নে কাজ করবে। তিনি বলেন, প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে উদ্ভাবন ও উদ্যোগকে উৎসাহিত করা হবে। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বকে শক্তিশালী করা হবে এবং প্রযুক্তিনির্ভর, বহুমুখী অর্থনীতি গড়ে তোলা হবে।
শিক্ষা, নারী ক্ষমতায়ন এবং গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবার প্রসারেও সরকারের লক্ষ্য নির্ধারিত। প্রধানমন্ত্রী বলেন, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা জোরদার করা, পাঠ্যক্রমে তৃতীয় ভাষা অন্তর্ভুক্ত করা এবং গ্রামীণ এলাকায় প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ করা হবে। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে দেশের সব প্রান্তে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল পৌঁছানো সম্ভব হবে।
সরকারের গণতান্ত্রিক অঙ্গীকারের ওপরও প্রধানমন্ত্রী গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, জনগণের আস্থা নির্ভর করে স্বচ্ছতা ও সততার ওপর, এবং শাসনের সব স্তরে দুর্নীতি মোকাবিলায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গণতন্ত্রকে ব্যালট বাক্সের সীমাবদ্ধতা থেকে মুক্ত করে অন্তর্ভুক্তি, স্বচ্ছতা ও সংলাপের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হবে।
মানবাধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সহনশীলতা এবং বহুত্ববাদও সরকারের অঙ্গীকারের অংশ। প্রধানমন্ত্রী জানান, ধাপে ধাপে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড চালু করা হবে, যা নারী সদস্য এবং কৃষি সম্প্রদায়ের জন্য লক্ষ্যভিত্তিক সামাজিক ও অর্থনৈতিক সহায়তা প্রদান করবে।
পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ে তিনি বলেন, জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে বাংলাদেশের লক্ষ্য হলো জলবায়ু সহনশীলতা ও টেকসই উন্নয়ন এগিয়ে নেওয়া, যা বৈশ্বিক অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বিতভাবে সম্পাদিত হবে।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ২০২৬-২০২৭ মেয়াদের জন্য জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির পদে বাংলাদেশের প্রার্থী হিসেবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে সমর্থনের আহ্বান জানান। এছাড়া পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বক্তব্য রাখেন।


