বাংলাদেশ ডেস্ক
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার মুছাপুরে ছোট ফেনী নদীর উপর প্রস্তাবিত মুছাপুর রেগুলেটর নির্মাণ প্রকল্পের সরেজমিন পরিদর্শনে আসছেন দুই মন্ত্রী। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকাল ১০টার পর বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু এবং পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি মুছাপুর রেগুলেটর এলাকা পরিদর্শন করবেন।
নোয়াখালী-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম শনিবার (৭ মার্চ) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ২০২৪ সালের ২৬ আগস্ট প্রবল বর্ষণ এবং উজানের ঢলে মুছাপুরের ২৩ ভেন্টবিশিষ্ট রেগুলেটরটি ধসে যাওয়ায় কোম্পানীগঞ্জ, সোনাগাজী ও দাগনভূঁইয়া উপজেলায় ব্যাপক নদীভাঙন দেখা দেয়। ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে নতুন রেগুলেটর নির্মাণে সরকার ৮৯৬ কোটি ৬১ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) অনুমোদন মিললেই প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়ন শুরু হবে। নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয়রা পরিদর্শনের সময় মন্ত্রীর কাছে তাদের বিভিন্ন দাবি তুলে ধরবেন।
পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) প্রস্তাবিত “মুছাপুর রেগুলেটর নির্মাণসহ ছোট ফেনী ও বামনী নদী অববাহিকায় সমন্বিত বন্যা ও নদী ব্যবস্থাপনা এবং নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন” শীর্ষক প্রকল্পটি প্রায় ৮৯৬ কোটি ৬১ লাখ টাকার ব্যয়ে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। প্রকল্পটি চলতি মাস থেকে ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদে সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর আগে, ২০০৫ সালে কোম্পানীগঞ্জ উপকূলে অব্যাহত নদীভাঙন প্রতিরোধে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব অর্থায়নে নতুন ডাকাতিয়া ও পুরাতন ডাকাতিয়া-ছোট ফেনী নদীর পানি নিষ্কাশন প্রকল্প শুরু হয়। এই প্রকল্পের আওতায় ১৯ কোটি ৪৪ লাখ ৭৪ হাজার টাকায় ২৩ ভেন্টবিশিষ্ট মুছাপুর রেগুলেটর নির্মাণ করা হয়। ওই বছরের ৮ মার্চ সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া প্রকল্পটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
নির্মাণকালে ২৩টি ভেন্টে রেডিয়াল গেট ও ফ্ল্যাপ গেট স্থাপন করা হয়। রেগুলেটরের পানি নিষ্কাশন ক্ষমতা ছিল ৭৫৬.১৫ ঘনমিটার-সেকেন্ড এবং পানিধারণ ক্ষমতা +৪.০০ মিটার পিডব্লিউডি।
নোয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এস.এম. রিফাত জামিলহয়া জানান, দুই মন্ত্রী মুছাপুর রেগুলেটর এলাকা ছাড়াও নদীভাঙন প্রতিরোধে চলমান বামনী ক্লোজার ও উড়িরচর ক্রসড্যাম নির্মাণ এলাকা পরিদর্শন করবেন। এই পরিদর্শন প্রকল্পের বাস্তবায়ন, নদীভাঙন নিয়ন্ত্রণ এবং স্থানীয়দের জীবন ও সম্পদ রক্ষা কার্যক্রমের অগ্রগতির উপর নজরদারি নিশ্চিত করবে।
প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে নদীভাঙন ও বন্যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করবে এবং স্থানীয় কৃষি, বসতি ও অবকাঠামোগত নিরাপত্তা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এছাড়া নদী ব্যবস্থাপনা ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা সমন্বয় প্রকল্পের অংশ হিসেবে ছোট ফেনী ও বামনী নদীর পানি প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ ও বন্যা প্রভাব হ্রাসে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হিসেবে কাজ করবে।


