আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় রণতরী **ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ড** বর্তমানে ভূমধ্যসাগর থেকে লোহিত সাগরে স্থানান্তরিত হচ্ছে। শনিবার (৭ মার্চ) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, রণতরীটি বর্তমানে মিসরের সুয়েজ খাল পার করছে।
বিশ্বের সর্ববৃহৎ এই মার্কিন নৌযানটি কয়েকদিন ধরে ভূমধ্যসাগরে অবস্থান করছিল। নিরাপত্তা ও কৌশলগত কারণে যুক্তরাষ্ট্র রণতরীটিকে রোহিত সাগরের দিকে স্থানান্তর করছে। সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে এই ধরনের রণতরী নৌসেনার বৈশ্বিক অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, বিশেষত কৌশলগত জলপথ এবং নৌ-সীমান্ত সুরক্ষার ক্ষেত্রে।
ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ডকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মিশনে ব্যবহার করা হয়েছে। গত জানুয়ারিতে, এই রণতরীকে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো অপহরণের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা করা হয়েছিল। এরপর ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য হামলার প্রস্তুতির জন্য এটিকে ভূমধ্যসাগরে মোতায়েন করা হয়। সেই সময়ে রণতরীটি ইসরায়েলের হাইফা বন্দরে নোঙর করেছিল।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ধরনের নৌযানের স্থানান্তর কৌশলগত সংকেত হিসেবে দেখা যেতে পারে। লোহিত সাগর ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলগুলো বর্তমানে আন্তর্জাতিক নৌ-পরিবহন ও সামরিক কৌশলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র পূর্বমধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার জলসীমায় নিজের প্রভাব ও উপস্থিতি বাড়াতে চাইছে।
ন্যাশনাল ইন্টারেস্টের মতো আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ডের এই পদক্ষেপ বিশেষত মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার জ্বালানি সরবরাহ, বাণিজ্যপথের নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার সঙ্গে সম্পর্কিত। এছাড়া, রণতরীটির উপস্থিতি স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক নৌসেনার সঙ্গে যৌথ মহড়া ও সমন্বয়মূলক কর্মকাণ্ডে সহায়তা করতে পারে।
ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ড হল **ফোর্ড-শ্রেণীর এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার**, যা প্রায় ১০ হাজার নৌসেনাকে বহন করতে সক্ষম। এটি উচ্চ-প্রযুক্তির সেন্সর, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং বিমান পরিচালনার সুবিধা সমন্বিত, যা সামরিক নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এর গতিশীলতা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-প্রভাবকে আন্তর্জাতিকভাবে দৃঢ় করে।
সুয়েজ খাল পার হওয়া এই রণতরীটির লোহিত সাগরে স্থানান্তর, বিশেষত ভারত মহাসাগর ও আরব সাগরের নৌপথে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত উপস্থিতি আরও বৃদ্ধি করতে পারে। নৌ নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, এই ধরনের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক জলসীমায় রাজনৈতিক ও সামরিক ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে রণতরীটির এই স্থানান্তর মনোযোগ আকর্ষণ করছে, কারণ এটি কৌশলগত দিক থেকে অঞ্চলের নিরাপত্তা, সামরিক মহড়া, এবং রাজনৈতিক প্রভাবের সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত। নাবিক এবং প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা এই ধরনের পদক্ষেপকে যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক সামরিক কৌশলের একটি অংশ হিসেবে দেখছেন, যা আন্তর্জাতিক জলসীমায় প্রভাব বজায় রাখতে সাহায্য করবে।


