তথ্য প্রযুক্তি ডেস্ক
যুক্তরাজ্যের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান **অটোমেটেড আর্কিটেকচার (UAR)** বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান আবাসন সংকট এবং দক্ষ নির্মাণ শ্রমিকের অভাব মোকাবিলায় একটি বহনযোগ্য **‘মাইক্রো-ফ্যাক্টরি’** চালু করেছে, যা ব্যবহার করে একটি সম্পূর্ণ বাড়ির কাঠের কাঠামো মাত্র এক দিনে তৈরি করা সম্ভব। প্রথাগত পদ্ধতিতে এই কাজ সম্পন্ন হতে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগত, তবে রোবোটিক প্রযুক্তির ব্যবহার প্যানেল তৈরির সময়কে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সীমিত করেছে।
বর্তমান সময়ে যুক্তরাজ্যসহ উন্নত দেশগুলিতে দক্ষ নির্মাণ শ্রমিকের তীব্র ঘাটতি দেখা দিয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৮ সালের মধ্যে যুক্তরাজ্যে নির্মাণ লক্ষ্যমাত্রা পূরণে প্রায় আড়াই লাখ অতিরিক্ত শ্রমিকের প্রয়োজন হবে। এই শূন্যস্থান পূরণের লক্ষ্য নিয়ে **UAR** তাদের স্বয়ংক্রিয় রোবোটিক হাত ব্যবহার করছে। প্রতিষ্ঠানটির সহ-প্রতিষ্ঠাতা **মলি ক্লেপুল** জানিয়েছেন, এই প্রযুক্তি শ্রমিকদের চাকরি কেড়ে নিচ্ছে না, বরং বিদ্যমান শ্রমশক্তির ঘাটতি পূরণে সহায়ক হচ্ছে।
কম্পানির তৈরি মাইক্রো-ফ্যাক্টরি একটি শিপিং কন্টেইনারের মধ্যে সংরক্ষণযোগ্য, যা সহজেই যে কোনো নির্মাণস্থলে পাঠানো যায়। কাজের প্রক্রিয়া অত্যন্ত আধুনিক এবং স্বয়ংক্রিয়। স্থপতিরা নকশা পাঠালে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা হিসাব করে কাঠের প্রয়োজনীয় পরিমাণ। এতে উপাদানের অপচয় কমে এবং সঠিক কাটের মাধ্যমে জানালা, দরজা ও পাইপলাইন বা ইলেকট্রিক সংযোগের জন্য ছিদ্র তৈরি হয়। রোবট দ্বারা প্রস্তুত প্যানেলগুলো দক্ষ ঠিকাদাররা দ্রুত একত্রিত করে বাড়ি দাঁড় করান।
বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, রোবোটিক পদ্ধতিতে নির্মিত কাঠের ফ্রেম সাধারণ কাঠের ফ্রেমের তুলনায় প্রায় ৩০% সাশ্রয়ী। এছাড়া, বড় কারখানা থেকে প্যানেল আনার চেয়ে এই পদ্ধতি ১৫% কম খরচে সম্ভব হচ্ছে। পরিবেশের জন্যও এটি আরও সহায়ক; ইটের বাড়ির তুলনায় প্যানেল-ভিত্তিক কাঠের বাড়ি প্রায় ২০% কম গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন করে। প্যানেলগুলো এত নিখুঁতভাবে মিলিত হয় যে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ সহজ হয়, ফলে বাড়িগুলো অনেক বেশি জ্বালানি সাশ্রয়ী।
যুক্তরাজ্য সরকার ২০২৯ সালের মধ্যে ১৫ লাখ নতুন বাড়ি নির্মাণের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। তবে কাঠের বাড়ি নিয়ে মানুষের মধ্যে এখনও পুরনো মানসিকতা বিদ্যমান; অনেকেই মনে করেন কাঠের বাড়ি ইটের মতো স্থায়ী ও মজবুত নয়। তবে বিশেষজ্ঞরা বলেন, আধুনিক রোবোটিক প্রযুক্তি এবং সঠিক প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে কাঠের বাড়ি দীর্ঘস্থায়ী, নিরাপদ এবং জলবায়ু উপযোগী।
**UAR** এর দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বে ১,০০০টি মাইক্রো-ফ্যাক্টরি স্থাপন করা হবে, যা বছরে অন্তত ২ লাখ বাড়ি তৈরি করতে সক্ষম হবে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক বাজারেও তাদের কার্যক্রম সম্প্রসারণ করছে।
এই প্রযুক্তির ব্যবহার আবাসন খাতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে এবং দক্ষ শ্রমিকের ঘাটতি দূর করতে একটি সম্ভাবনাময় সমাধান হিসেবে উদ্ভাবনমূলক পথ তৈরি করেছে।


