জাতীয় ডেস্ক
রোববার (৮ মার্চ) মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদযাপন উপলক্ষে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ‘শ্রেষ্ঠ অদম্য নারী’ সম্মাননা প্রদান করবে। এই অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসামান্য অবদান রাখার স্বীকৃতি হিসেবে ছয়জন নারীকে সম্মাননা দেওয়া হবে।
মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে ‘গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রায় শ্রেষ্ঠ অদম্য নারী’ হিসেবে সম্মাননা দেওয়া হবে। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে তার আপসহীন সংগ্রাম ও নেতৃত্ব এবং দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অবদানের জন্য এই স্বীকৃতি প্রদান করা হচ্ছে।
এছাড়া, অন্যান্য পাঁচটি ক্যাটাগরিতে অদম্য নারী হিসেবে পাঁচজনকে পুরস্কৃত করা হবে। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারী নারী হিসেবে নুরুন নাহার আক্তারকে, শিক্ষা ও চাকুরিক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারী নারী হিসেবে মোছা. ববিতা খাতুনকে, সফল জননী নারী হিসেবে নুরবানু কবীরকে, নির্যাতনের দুঃস্বপ্ন মুছে ফেলে জীবন সংগ্রামে জয়ী নারী হিসেবে মোছা. শমলা বেগমকে এবং সমাজ উন্নয়নে অসামান্য অবদান রেখেছেন যে নারী হিসেবে মোছা. আফরোজা ইয়াসমিনকে স্বীকৃতি দেওয়া হবে।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই পুরস্কারগুলো নারী দিবস উপলক্ষে নারীর অবদানের স্বীকৃতি এবং সমাজে নারীর নেতৃত্ব, শিক্ষা, অর্থনীতি ও সামাজিক উন্নয়নে তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা তুলে ধরার উদ্দেশ্যে প্রবর্তিত। ২০১৯ সাল থেকে ‘শ্রেষ্ঠ অদম্য নারী’ পুরস্কারের আয়োজন প্রতি বছর অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে এবং দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীর অবদানের উদযাপন করে থাকে।
বিভিন্ন ক্ষেত্রে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত নারীরা সমাজে নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষা প্রসার, স্বাস্থ্য ও সামাজিক উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা পালন করে আসছেন। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সফল নারীরা উদাহরণ স্থাপন করেছেন নারী উদ্যোক্তা হিসেবে। শিক্ষা ও চাকুরিক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারী নারী শিক্ষার্থী ও সহকর্মীদের মধ্যে প্রেরণা সঞ্চার করেন। একইভাবে সফল জননীরা পরিবার ও সমাজে সুষম ও সমৃদ্ধ পরিবেশ গড়ে তুলতে অবদান রাখছেন।
নির্যাতন ও সামাজিক প্রতিকূলতা পার হওয়া নারীদের উদাহরণ দেশের অন্যান্য নারীদের জন্য প্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করে। এই পুরস্কারের মাধ্যমে তাদের সংগ্রাম, অধ্যবসায় ও নেতৃত্বকে স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে, যা দেশের নারী সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে সহায়ক হবে।
মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় আশা প্রকাশ করেছে, এই ধরনের স্বীকৃতি নারীর ক্ষমতায়ন ও সমাজে তাদের ভূমিকা প্রসারে সহায়তা করবে। অনুষ্ঠানটি সরকারের নারী নীতি ও বৈষম্য হ্রাসে গৃহীত পদক্ষেপগুলোর ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে পরিচালিত হবে।


