সংসদের নেতিবাচকতা দূর করে ইতিবাচক ধারা প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

সংসদের নেতিবাচকতা দূর করে ইতিবাচক ধারা প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

জাতীয় ডেস্ক

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ভবিষ্যৎ জাতীয় সংসদের কার্যক্রম এমনভাবে পরিচালিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা দেখে দেশবাসী আশ্বস্ত হবে। তিনি বলেন, অতীতে সংসদে যে ধরনের নেতিবাচক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, সেসব অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আগামী সংসদকে কার্যকর ও ইতিবাচক ধারায় পরিচালনার চেষ্টা করা হবে।

শনিবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে আয়োজিত সংসদ সদস্যদের প্রশিক্ষণ কর্মশালার শেষ দিনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। আগামী ১২ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনকে সামনে রেখে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য এই প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, দেশের জনগণ এমন একটি সংসদ দেখতে চান যেখানে কার্যকর আলোচনা, গঠনমূলক বিতর্ক এবং নীতিনির্ধারণী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক চর্চা আরও শক্তিশালী হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন সংসদের কার্যক্রম সেই প্রত্যাশা পূরণে ভূমিকা রাখবে এবং সংসদীয় কার্যক্রমের প্রতি জনগণের আস্থা বাড়াবে।

প্রশিক্ষণ কর্মশালার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, এতে সংসদ পরিচালনার বিধি-বিধান, সংসদীয় রীতিনীতি এবং আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বিশেষভাবে সংসদের ‘রুলস অব প্রসিডিউর’, সংসদীয় আচরণবিধি, স্বার্থের সংঘাত সম্পর্কিত নীতিমালা এবং সংসদীয় কার্যক্রম পরিচালনার বিভিন্ন দিক নিয়ে অংশগ্রহণকারীদের অবহিত করা হয়। পাশাপাশি সংবিধানভিত্তিক সংসদীয় কাঠামো, সংসদের ঐতিহ্যগত রেওয়াজ এবং কার্যপ্রণালীর বিভিন্ন দিক নিয়েও আলোচনা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, সংসদ সদস্যদের দায়িত্ব পালনে দক্ষতা ও প্রস্তুতি বাড়ানোর জন্য এ ধরনের প্রশিক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ। কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী নবনির্বাচিত সদস্যদের সংসদে কার্যকরভাবে বক্তব্য উপস্থাপন, আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ এবং সংসদীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখার বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, যেসব দেশে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালীভাবে প্রতিষ্ঠিত, সেসব দেশের সংসদীয় কার্যক্রম এবং সেখানকার পার্লামেন্টারি প্র্যাকটিস নিয়েও কর্মশালায় আলোচনা হয়েছে। এসব অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশের সংসদীয় কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যারা প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন, তাদের জন্য সংসদীয় কার্যক্রম সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা থাকা প্রয়োজন। নতুন সদস্যদের সংসদীয় পরিবেশ, নিয়মনীতি এবং দায়িত্ব সম্পর্কে অবহিত করার লক্ষ্যেই এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে। তিনি বলেন, নতুন সদস্যরা সংসদীয় কার্যক্রমে অংশগ্রহণের মাধ্যমে ধীরে ধীরে অভিজ্ঞতা অর্জন করবেন এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখবেন।

প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজনের লক্ষ্য সম্পর্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সংসদ সদস্যদের প্রস্তুত করা এবং দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনে তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি করাই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নবনির্বাচিত প্রতিনিধিরা সংসদীয় কার্যক্রমে আরও সচেতন ও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন।

দলীয় সূত্রে জানানো হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরুর আগে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীদের সংসদীয় কার্যপ্রণালি সম্পর্কে ধারণা দিতে দুই দিনব্যাপী এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে। কর্মশালায় সংসদের নিয়ম-কানুন, আইন প্রণয়নের ধাপ, সংসদীয় বিতর্কের পদ্ধতি এবং সংসদ সদস্যদের দায়িত্ব ও আচরণবিধি বিষয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, সংসদ সদস্যদের জন্য এ ধরনের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি সংসদীয় কার্যক্রমকে আরও সুসংগঠিত করতে সহায়ক হতে পারে। এতে নবীন সদস্যরা সংসদের কার্যপ্রণালি সম্পর্কে ধারণা লাভের পাশাপাশি আইন প্রণয়ন ও নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় আরও কার্যকরভাবে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ