ইরানি যুদ্ধজাহাজের ডুবির পর যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মধ্যে শ্রীলঙ্কা

ইরানি যুদ্ধজাহাজের ডুবির পর যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মধ্যে শ্রীলঙ্কা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ভারত মহাসাগরে ইরানি যুদ্ধজাহাজ ডুবির ঘটনায় উদ্ধার হওয়া নাবিকদের দেশে ফেরত পাঠানো নিয়ে শ্রীলঙ্কাকে যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের অভ্যন্তরীণ একটি তারবার্তা থেকে জানা গেছে, শ্রীলঙ্কার হেফাজতে থাকা নাবিকদের ইরানে ফেরত পাঠানো এড়াতে মার্কিন প্রশাসন সরাসরি হস্তক্ষেপ করছে।

গত বুধবার ভারত মহাসাগরের দক্ষিণ অংশে, শ্রীলঙ্কার গল শহরের ১৯ নটিক্যাল মাইল দূরে ইরানি যুদ্ধজাহাজ ‘আইআরআইএস ডেনা’ একটি মার্কিন সাবমেরিনের টর্পেডো হামলায় ডুবে যায়। এই হামলা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম ধরনের সামুদ্রিক আক্রমণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। হামলায় বহু ইরানি নাবিক নিহত হন এবং ৩২ জন জীবিত উদ্ধার হন।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ৬ মার্চের অভ্যন্তরীণ তারবার্তা অনুযায়ী, কলম্বোয় নিযুক্ত মার্কিন চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স জেন হাওয়েল শ্রীলঙ্কা সরকারের কাছে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, উদ্ধার হওয়া ৩২ জন নাবিক এবং হেফাজতে থাকা দ্বিতীয় ইরানি জাহাজ ‘আইআরআইএস বুশেহর’-এর ২০৮ জন নাবিককে কোনোভাবে ইরানে ফেরত পাঠানো যাবে না। মার্কিন প্রশাসনের বক্তব্য অনুযায়ী, তারা উদ্বিগ্ন যে ইরান এই বন্দি নাবিকদের প্রোপাগান্ডা বা প্রচারণার কাজে ব্যবহার করতে পারে।

শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিশানায়েকে এই পরিস্থিতি নিয়ে বলেছেন, বিপদে পড়া নাবিকদের আশ্রয় দেওয়া তার দেশের মানবিক দায়িত্ব। ইতিমধ্যে ‘আইআরআইএস বুশেহর’-এর ২০৮ জন নাবিককে জাহাজ থেকে নামিয়ে কলম্বোর কাছে একটি নৌ-শিবিরে স্থানান্তর করা হয়েছে। তবে শ্রীলঙ্কার স্বাস্থ্য ও গণমাধ্যম উপমন্ত্রী হানসাকা উইজেমুনি জানিয়েছেন, তেহরান নিহত নাবিকদের মরদেহ ফেরত চেয়েছে, কিন্তু এ প্রক্রিয়া কখন শুরু হবে তা এখনও নির্দিষ্ট নয়।

প্রসঙ্গত, ডেনা যুদ্ধজাহাজটি বঙ্গোপসাগরে ভারতের আয়োজিত একটি নৌ-মহড়া শেষে ইরানে ফেরার পথে ছিল। হামলার সময় কোনো পূর্বসতর্কতা বা শত্রুতা ঘোষণা করা হয়নি। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং পার্শ্ববর্তী দেশগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই আক্রমণ সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক আইন নিয়ে জটিল প্রশ্ন উত্থাপন করেছে, এবং অঞ্চলের সামরিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র শ্রীলঙ্কার সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার পাশাপাশি নাবিকদের ইরানে ফেরত পাঠানো এড়াতে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে চাইছে। শ্রীলঙ্কা meanwhile মানবিক কারণে নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং নিহতদের মরদেহ সঠিকভাবে হস্তান্তরের দায়িত্ব পালন করতে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

এই ঘটনার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক জলসীমা নিরাপত্তা, নৌসামরিক হামলা, এবং তীব্র কূটনৈতিক চাপের সঙ্গে যুক্ত রাষ্ট্রগুলোর ভূমিকা নিয়ে নতুনভাবে আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদ