চট্টগ্রামে অকটেনের মজুত রয়েছে ২৫ দিন, ডিজেলে ১৫ দিনের স্টক

চট্টগ্রামে অকটেনের মজুত রয়েছে ২৫ দিন, ডিজেলে ১৫ দিনের স্টক

জাতীয় ডেস্ক

চট্টগ্রামে গত দু’দিন ধরে অকটেনের সংকট নিয়ে জনসাধারণের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) জানিয়েছে, দেশের সার্বিক অকটেনের মজুত ২৩ হাজার ৫০০ টন, যা বর্তমান চাহিদা অনুযায়ী প্রায় ২৫ দিনের জন্য পর্যাপ্ত। একই সঙ্গে দেশের ডিজেলের মজুত কম, যা প্রায় ১৫ দিন চলবে।

বিপিসি জানিয়েছে, মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকার-জিপের জ্বালানি হিসেবে প্রধানত অকটেন ব্যবহার করা হয়। মোটরসাইকেলে প্রায় শতভাগ অকটেনের ওপর নির্ভরতা থাকলেও প্রাইভেটকার ও জিপ অকটেনের পাশাপাশি এলপিজি ও এলএনজি ব্যবহার করতে পারে। বিপিসি দেশীয় জ্বালানি তেলের আমদানি, পরিশোধন ও বিতরণ নিয়ন্ত্রণ করে। শুক্রবার বিকেলে বিপিসি প্রেস রিলিজের মাধ্যমে যানবাহনে রেশনিং পদ্ধতিতে তেল বিক্রির নির্দেশনা জারি করে। প্রেস রিলিজে বলা হয়েছে, দেশের জ্বালানি তেলের প্রায় ৯৫ শতাংশ আমদানি করা হয়।

বিপিসি অনুযায়ী, চলমান পরিস্থিতিতে প্রতিদিন একটি মোটরসাইকেলকে দুই লিটার, প্রাইভেটকারকে ১০ লিটার, জিপ-মাইক্রোবাসকে ২০–২৫ লিটার অকটেন/পেট্রোল এবং দূরপাল্লার বাস ও ট্রাককে ২০০–২২০ লিটার ডিজেল সরবরাহ করা হচ্ছে। পিকআপ ও লোকাল বাসকে ৭০–৮০ লিটার দেওয়া হচ্ছে।

অবস্থা নিয়ন্ত্রণে দেড় সপ্তাহ আগে বিপিসিতে নতুন চেয়ারম্যান রেজানুর রহমান যোগদান করেছেন। তবে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং জাহাজ চলাচলে অনিশ্চয়তার কারণে আমদানিকৃত জ্বালানি তেল সময়মতো না পৌঁছার আশঙ্কা রয়েছে। বিপিসির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বর্তমানে হাতে ১ লাখ ৩২ হাজার টনের ডিজেল রয়েছে, যা রেশনিং পদ্ধতিতে ১৫ দিন চলবে। অকটেনের মজুত ২৩ হাজার ৫০০ টন, পেট্রোল ১৬ হাজার টন এবং ফার্নেস অয়েল রয়েছে ৪৯ দিনের জন্য।

চট্টগ্রাম ও দেশের অন্যান্য অঞ্চলে পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ সারি লক্ষ্য করা গেছে। অনেক মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকার চালক ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন। পাম্পের কর্মচারীরা জানিয়েছেন, সরকারিভাবে মোটরসাইকেলকে দুই লিটার, প্রাইভেটকারকে সর্বোচ্চ ১০ লিটার অকটেন দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। তবে ভোক্তাদের ভোগান্তি কমাতে কিছু পাম্পে তা অল্প অতিরিক্ত বিক্রি করা হচ্ছে।

দীর্ঘদিন অভিজ্ঞ বিপিসির কর্মকর্তাদের ওএসডি করা, এবং নতুন পরিচালকদের দায়িত্ব নেওয়া সংক্রান্ত সমালোচনা দেখা দিয়েছে। সমালোচকরা বলছেন, নতুন কর্মকর্তাদের পুরো পরিস্থিতি বোঝার আগেই হঠাৎ পদায়ন ও দায়িত্ব বদল উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। বিপিসি কর্মকর্তা এবং ব্যবসায়ীরা জানান, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী রেশনিং প্রয়োগ করা হচ্ছে, এবং বর্তমানে মজুত পর্যাপ্ত থাকায় প্যানিক সৃষ্টির কোনো কারণ নেই।

কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) চট্টগ্রাম বিভাগের সভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও তা যথাযথভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব। সরকারের ও কর্মকর্তাদের পদক্ষেপের সঙ্গে সমন্বয় না থাকলে পরিস্থিতি জটিল হতে পারে। তিনি বলেন, বিপিসির বর্তমান মজুত দিয়ে কোনো তেলের অভাব হওয়ার কথা নয়।

বিপিসির সচিব শাহিনা সুলতানা জানিয়েছেন, দেশজুড়ে জ্বালানি তেলের বিপণন ব্যবস্থাপনা ক্লোজ মনিটরিং করা হচ্ছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান টুকু বলেন, দেশজুড়ে তেলের স্বাভাবিক মজুত রয়েছে এবং তেলের কোনো অভাব নেই। আগামী ৯ মার্চ আরও দুটি তেলবাহী জাহাজ আসবে। সরকারের রেশনিং ব্যবস্থা করা হয়েছে সম্ভাব্য অনিশ্চয়তার মোকাবিলায়, এবং জনগণকে আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ