অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি চীন সোনার ওপর নির্ভরশীলতা বাড়াচ্ছে। শনিবার (৭ মার্চ) প্রকাশিত সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চীনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘পিপলস ব্যাংক অফ চায়না’ (পিবিওসি) টানা ১৬ মাস ধরে তাদের সোনার মজুত বৃদ্ধি করছে।
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে পিবিওসি আরও ৩০ হাজার ট্রয় আউন্স সোনা ক্রয় করেছে। এ ক্রয়ের পর চীনের মোট সোনার মজুত দাঁড়িয়েছে ৭৪.২২ মিলিয়ন ফাইন ট্রয় আউন্সে। চলতি ক্রয় অভিযান ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে শুরু হয় এবং এখনও অব্যাহত রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি ও আন্তর্জাতিক অস্থিরতার কারণে বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ সম্পদের দিকে ঝুঁকছেন। অনেক কেন্দ্রীয় ব্যাংক এখন বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভের ঝুঁকি কমাতে সোনা সংরক্ষণে মনোযোগ দিচ্ছে। কারণ সোনা রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার সময়ে নিরাপদ সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হয়।
বিশ্ববাজারে সোনার চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে বিশেষ করে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলার পর। এর প্রভাবে সোনার মূল্য প্রতি আউন্সে পাঁচ হাজার মার্কিন ডলারের ওপরে পৌঁছেছে।
ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের (ডব্লিউজিসি) তথ্য অনুযায়ী, বছরের শুরুতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সোনা কেনার হার কিছুটা কমেছে। জানুয়ারিতে মোট নিট ক্রয় মাত্র পাঁচ টন ছিল, যেখানে গত ১২ মাসের গড় ছিল প্রায় ২৭ টন। একই সময়ে কিছু দেশ সোনা বিক্রিও করেছে; এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য পোল্যান্ড, রাশিয়া ও ভেনেজুয়েলার কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেছেন, চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত থাকলে ২০২৬ জুড়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সোনা সংগ্রহের কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারে। ডব্লিউজিসির বিশ্লেষক মারিসা সালিম জানান, অস্থির বাজারমূল্য এবং ছুটির মৌসুমের কারণে কিছু কেন্দ্রীয় ব্যাংক সাময়িক বিরতি নিয়েছে, তবে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা প্রশমিত হওয়ার কোনো লক্ষণ না থাকায় বছরের বাকি সময়ও সোনা মজুতের প্রবণতা বজায় থাকবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের ক্রয়াভিযান চীনের বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভের স্থিতিশীলতা এবং অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এছাড়া, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের জন্যও সোনার ওপর নির্ভরশীলতা বাড়ানো এক ধরনের ঝুঁকি প্রশমন কৌশল হিসেবে কাজ করছে।
ব্লুমবার্গের তথ্যানুযায়ী, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সোনা সংগ্রহে এই প্রবণতা বিশ্ববাজারে দীর্ঘমেয়াদে সোনার চাহিদা ও মূল্য স্থিতিশীলতায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং আন্তর্জাতিক সংঘাত অব্যাহত থাকলে, সোনা ক্রয় এখন শুধু নিরাপদ বিনিয়োগের মাধ্যম নয়, বরং অর্থনৈতিক রক্ষণশীলতার একটি প্রধান হাতিয়ার হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।


