ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে দুই দিনে ১ হাজার ৮৯৯ মামলা

ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে দুই দিনে ১ হাজার ৮৯৯ মামলা

রাজধানী ডেস্ক

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় দুই দিনব্যাপী অভিযান পরিচালনা করে মোট ১ হাজার ৮৯৯টি ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের মামলা করেছে। অভিযানের সময় আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে গাড়ি জব্দ ও জরিমানা প্রদানের কার্যক্রমও পরিচালনা করা হয়েছে।

ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) ও শুক্রবার (৬ মার্চ) ট্রাফিক বিভাগ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় এই অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে রাজধানীর প্রতিটি ট্রাফিক বিভাগের ক্ষেত্রভিত্তিক মামলা ও গাড়ি জব্দের সংখ্যা প্রকাশ করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ট্রাফিক-রমনা এলাকায় ৭টি বাস, ৪টি কাভার্ডভ্যান, ১৩টি সিএনজি ও ৩৬টি মোটরসাইকেলসহ মোট ১১৯টি মামলা করা হয়েছে। ট্রাফিক-লালবাগ এলাকায় ৪টি বাস, ১১টি ট্রাক, ২টি কাভার্ডভ্যান, ১০টি সিএনজি ও ৭৪টি মোটরসাইকেলসহ ১৩৪টি মামলা হয়েছে। ট্রাফিক-মতিঝিল এলাকায় ৮টি বাস, ১টি ট্রাক, ১২টি কাভার্ডভ্যান, ১৮টি সিএনজি ও ৭৫টি মোটরসাইকেলসহ ১৩২টি মামলা করা হয়েছে।

অন্যদিকে, ট্রাফিক-ওয়ারী এলাকায় ২০টি বাস, ৪৫টি ট্রাক, ৪১টি কাভার্ডভ্যান, ৪১টি সিএনজি ও ১১৬টি মোটরসাইকেলসহ ৩২০টি মামলা করা হয়। ট্রাফিক-তেজগাঁও এলাকায় ১২টি বাস, ১টি ট্রাক, ১৫টি কাভার্ডভ্যান, ১৬টি সিএনজি ও ১০২টি মোটরসাইকেলসহ ১৯০টি মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। ট্রাফিক-মিরপুর এলাকায় ১০টি বাস, ১০টি ট্রাক, ১০টি কাভার্ডভ্যান, ৩৬টি সিএনজি ও ১৫৩টি মোটরসাইকেলসহ ২৬৫টি মামলা হয়েছে।

উত্তরা অঞ্চলে ট্রাফিক বিভাগ ৪৭টি বাস, ২২টি ট্রাক, ২৯টি কাভার্ডভ্যান, ৭৮টি সিএনজি ও ১৮৬টি মোটরসাইকেলসহ সর্বোচ্চ ৪৬৫টি মামলা করেছে। ট্রাফিক-গুলশান এলাকায় ১৮টি বাস, ৮টি ট্রাক, ১০টি কাভার্ডভ্যান, ৩২টি সিএনজি ও ১০৫টি মোটরসাইকেলসহ ২৭১টি মামলা রেকর্ড করা হয়েছে।

অভিযানের সময় মোট ৬৩১টি গাড়ি ডাম্পিং করা হয়েছে এবং ২৭৩টি গাড়ি রেকার করা হয়েছে। ডিএমপি সূত্রে জানা গেছে, এই ধরনের অভিযান ট্রাফিক শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়মিতভাবে চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

ডিএমপি ট্রাফিক বিভাগের এ ধরনের উদ্যোগ রাজধানীর যানজট কমানো এবং ট্রাফিক আইন অমান্যকারীদের প্রতি সতর্কবার্তা প্রদানের ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে বাস, ট্রাক, সিএনজি ও মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং অবৈধ পার্কিং প্রতিরোধের মাধ্যমে সড়কে নিরাপত্তা বৃদ্ধিতে অবদান রাখা হচ্ছে।

এছাড়া, ডিএমপি জানিয়েছে, অভিযানের পাশাপাশি জনগণকে সচেতন করার জন্য নিয়মিতভাবে সচেতনতামূলক কার্যক্রম ও নোটিশ প্রচার করা হবে, যাতে ব্যক্তিগত গাড়ি চালক এবং যানবাহন মালিকরা ট্রাফিক আইন মেনে চলার দিকে উৎসাহিত হন।

এই অভিযানের ফলাফল অনুযায়ী, রাজধানীর বিভিন্ন অঞ্চলে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের সংখ্যা ও ধরনের ধারাবাহিক তথ্য সংগ্রহ করে ভবিষ্যতে আরও লক্ষ্যভিত্তিক নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

রাজধানী শীর্ষ সংবাদ