দক্ষিণ আফ্রিকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেটারদের দেশে ফেরার অস্বস্তি

দক্ষিণ আফ্রিকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেটারদের দেশে ফেরার অস্বস্তি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর দেশে ফেরার প্রক্রিয়ায় সমতা না থাকার অভিযোগ উঠেছে দক্ষিণ আফ্রিকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট দলের খেলোয়াড়দের পক্ষ থেকে। এই বিষয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)-এর বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার দুই তারকা কুইন্টন ডি কক ও ডেভিড মিলার। তারা বলেন, ভ্রমণ ব্যবস্থাপনায় সব দলের প্রতি সমান আচরণ করা হচ্ছে না।

দক্ষিণ আফ্রিকা দল ৪ মার্চ সেমিফাইনাল থেকে, আর ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল ১ মার্চ সুপার এইট পর্ব থেকে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে পড়েছে। তারপরও উভয় দল বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছে। আন্তর্জাতিক আকাশপথে চলমান কিছু বিধিনিষেধের কারণে তারা এখনও দেশে ফিরতে পারছেন না।

অন্যদিকে, ৫ মার্চ টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেওয়া ইংল্যান্ড দল দ্রুত দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছে। মুম্বাই থেকে ইংল্যান্ড দলের জন্য একটি বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইটের ব্যবস্থা করেছে আইসিসি। এই পার্থক্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অসন্তোষ প্রকাশ করেন কুইন্টন ডি কক। ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে তিনি লিখেছেন, “আমরা এখনো কিছুই জানি না, অথচ ইংল্যান্ড আমাদের আগেই চলে যাচ্ছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও দক্ষিণ আফ্রিকা যেন অন্ধকারে রয়েছে।”

ডেভিড মিলারও একই ধরনের মন্তব্য করেছেন। তার অভিযোগ, আগে বিদায় নেওয়া ইংল্যান্ড দল দ্রুত দেশে ফিরতে পারছে, কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ এখনও অপেক্ষায়। বর্তমানে উভয় দলই কলকাতায় অবস্থান করছে। ধারণা করা হচ্ছে, তারা একসঙ্গে একটি ফ্লাইটে দেশে ফিরবেন, যা রোববার ছাড়তে পারে। এই ফ্লাইট প্রথমে জোহানেসবার্গে পৌঁছাবে, এরপর ওয়েস্ট ইন্ডিজের খেলোয়াড়রা সেখানে থেকে অ্যান্টিগার উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন।

এই বিতর্কের প্রেক্ষিতে সমর্থন জানিয়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের কোচ ড্যারেন স্যামি। তিনি বলেন, ক্রিকেট প্রশাসনের নীতিতে কোনো দলের প্রভাবের কারণে আলাদা সুবিধা প্রদান করা উচিত নয়; সব দলকেই সমানভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সাবেক ইংল্যান্ড অধিনায়ক মাইকেল ভনও মন্তব্য করেছেন যে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ন্যায্যতা ও সমতা নিশ্চিত করতে সব দলকে সমান সুবিধা প্রদান করা উচিত।

বিশ্বকাপের পর দলের দ্রুত দেশে ফেরার বিষয়টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের নিয়ম ও সংক্রান্ত প্রক্রিয়ার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। বিশেষভাবে নির্ধারিত চার্টার্ড ফ্লাইট ও আন্তর্জাতিক বিধিনিষেধের প্রভাব কেবল ইংল্যান্ড দলকেই সুবিধা দিয়েছে, যা অন্যান্য দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে। এই ঘটনার প্রভাব ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে দলগুলোর পরিকল্পনা ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে ন্যায্যতার বিষয়টিকে আরও গুরুত্ব দিতে পারে।

দক্ষিণ আফ্রিকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের খেলোয়াড়রা একযোগে দেশে ফেরা সম্পন্ন হলে, এ ঘটনার প্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থার ভ্রমণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় সমতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচিত হবে।

আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদ