ফেনীতে পরিবেশ উন্নয়নে জোর, লুটপাট রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে :  মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু

ফেনীতে পরিবেশ উন্নয়নে জোর, লুটপাট রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে : মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু

জাতীয় ডেস্ক

ফেনী: পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেছেন, পরিবেশ খাতে পূর্বে যে অনিয়ম ও লুটপাট হয়েছে, তা ভবিষ্যতে আর হবে না। তিনি জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই ঘটেছে এমন অনিয়মের জন্য দায়ীদের চিহ্নিত করা হবে।

রোববার (৮ মার্চ) ফেনী সার্কিট হাউজে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এসব মন্তব্য করেন। এটি তার মন্ত্রী হওয়ার পর নিজ জেলা ফেনী ও সংসদীয় আসনে করা প্রথম সরকারি সফর।

মন্ত্রী আরও বলেন, “ঢাকা শহরের দূষণের মাত্রা বিশ্বের সবচেয়ে খারাপ অবস্থার মধ্যে রয়েছে। আমাদের জনগণের জীবনমান উন্নয়নের জন্য যেভাবেই হোক পরিবেশের মান উন্নয়ন করতে হবে। পূর্বের কোনো দোষীদের দিকে তাকিয়ে থাকা সময়ের অপচয়, বরং দূষণ কমানো আমাদের জাতীয় দায়িত্ব।”

তিনি মাটি পোড়ানো ইট উৎপাদন বন্ধ করে পরিবেশবান্ধব ইট ব্যবহার করার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন। মন্ত্রী জানান, মাটি পোড়ানো ইটের স্থলভিত্তিক শিল্পকে পরিবেশবান্ধব ব্লক ইটে রূপান্তর এক-দু’বছরে সম্ভব নয়, এটি একটি সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া। তবে বলিষ্ঠ পদক্ষেপের মাধ্যমে এই পরিবর্তন বাস্তবায়ন করা জরুরি।

সফরের সময় ফেনী জেলা প্রশাসক মুনিরা হক, পুলিশ সুপার মো. শফিকুল ইসলাম, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মো. নবী নেওয়াজ, পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোবাশ্বের হোসেন মো. রাজিব এবং ফেনী জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক গাজী হাবিবুল্লাহ মানিকসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মন্ত্রী সফরের অংশ হিসেবে স্থানীয় প্রকল্প ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিদর্শন করেন এবং কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিবেশগত উদ্যোগ ও নিয়ম-নীতি বাস্তবায়ন বিষয়ে মতবিনিময় করেন। তিনি পরিবেশ রক্ষা ও দূষণ নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে সরকারি প্রশাসন ও স্থানীয় সম্প্রদায়ের সমন্বিত অংশগ্রহণের গুরুত্বও বিশেষভাবে উল্লেখ করেন।

ফেনী জেলা পরিবেশ ও শিল্পখাতের প্রকল্পগুলোতে পূর্বে অনিয়মের অভিযোগ থাকলেও মন্ত্রী পরিষ্কার করেছেন, ভবিষ্যতে স্বচ্ছতা ও নিয়মনীতি নিশ্চিত করা হবে। এছাড়া, সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি স্থানীয় উদ্যোগ ও সচেতনতার মাধ্যমে দূষণ কমানো এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে।

মন্ত্রী তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী পদ্ধতির ব্যবহার অপরিহার্য। পরিবেশবান্ধব ইট উৎপাদন, শিল্পপ্রক্রিয়ায় দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং নগর ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে দেশের দীর্ঘমেয়াদী স্থায়িত্ব ও জনগণের স্বাস্থ্য রক্ষা সম্ভব হবে।

সফরের সময় মন্ত্রী জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের অগ্রগতি ও বাস্তবায়ন বিষয়ে বিস্তারিত অবহিত হন। তিনি স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন, পরিবেশ সংরক্ষণ কার্যক্রমকে কার্যকর ও নিয়মিত তদারকি করতে হবে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ