বাংলাদেশের খাদ্য রপ্তানি সম্প্রসারণে জাপানের সঙ্গে উদ্যোগ

বাংলাদেশের খাদ্য রপ্তানি সম্প্রসারণে জাপানের সঙ্গে উদ্যোগ

অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক

খাদ্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ ও কৃষি মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ জানিয়েছেন, বাংলাদেশ তার খাদ্য উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি করে জাপানের বাজারে খাদ্যপণ্য রপ্তানির উদ্যোগ নেবে। মন্ত্রী আজ রোববার নিজ অফিস কক্ষে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা)’র প্রধান প্রতিনিধি ইচিগুছি তমুহিদের নেতৃত্বে আসা প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, বিশ্বব্যাপী খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। যদি বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, তবে রপ্তানি প্রক্রিয়া সহজ হবে। এজন্য খাদ্য উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরণ, মজুদ, সরবরাহ, বিপণন ও বিক্রয় প্রক্রিয়ায় সকলের সমন্বিত সহযোগিতা প্রয়োজন। তিনি বলেন, “আমাদের খাদ্য রপ্তানির অনেক সুযোগ রয়েছে। বিশ্ব বাজারে চাহিদাও রয়েছে। এখন প্রয়োজন যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ, যা আমরা করব।”

বৈঠকে জাইকার অর্থায়নে বাংলাদেশে পরিচালিত ‘ফুড সেফটি টেস্টিং ক্যাপাসিটি ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট’ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। জানা যায়, এই দশ বছর মেয়াদি প্রকল্পের জন্য মোট ২ হাজার ৪০৯ কোটি ৭০ লাখ টাকা বরাদ্দ রয়েছে। প্রকল্পের আওতায় ঢাকায় একটি ফুড সেফটি রেফারেন্স ল্যাবরেটরি, চট্টগ্রাম ও খুলনায় দুটি খাদ্য পরীক্ষাগার, প্রশিক্ষণ ভবন নির্মাণ এবং অন্যান্য সক্ষমতা উন্নয়ন কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।

এই উদ্যোগের মাধ্যমে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনা বিভাগের খাদ্য নিরাপত্তা পরীক্ষার সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। মন্ত্রী বলেন, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে খাদ্য ব্যবস্থায় উপস্থিত চ্যালেঞ্জ ও সমস্যাগুলি চিহ্নিত করে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের সচেষ্ট হতে হবে।

এছাড়া মন্ত্রী জাইকা’কে প্রকল্পের জন্য ধন্যবাদ জানান এবং আশা প্রকাশ করেন যে, প্রকল্পটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের খাদ্য ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ও মান নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। বৈঠকে জাইকার উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি খাদ্য সচিব মো. ফিরোজ সরকারসহ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রকল্পের কার্যক্রম সম্পন্ন হলে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন খাদ্য উৎপাদন ও রপ্তানিতে সক্ষম হয়ে বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান নিশ্চিত করতে পারবে। বিশেষভাবে জাপানের বাজারে রপ্তানির জন্য খাদ্যপণ্যের গুণগত মান উন্নয়ন, পরীক্ষামূলক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক মানের মেনে চলা গুরুত্বপূর্ণ বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

এ প্রকল্পের ফলে শুধুমাত্র রপ্তানি নয়, দেশের অভ্যন্তরীণ খাদ্য নিরাপত্তার মানও বৃদ্ধি পাবে। খাদ্য উৎপাদন ও বিপণন ব্যবস্থায় সঠিক নিয়ন্ত্রণ থাকায় ভোক্তাদের কাছে নিরাপদ ও মানসম্মত খাদ্য পৌঁছে দেওয়া সহজ হবে। সরকারের এ ধরনের উদ্যোগ খাদ্য শিল্পের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও মানবসম্পদ উন্নয়নের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও প্রযুক্তি হস্তক্ষেপের মাধ্যমে বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও রপ্তানি সম্ভাবনা সম্প্রসারণের ক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে, যা দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

এভাবে সরকারের পরিকল্পিত উদ্যোগ এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশ আগামীতে বিশ্ববাজারে খাদ্যপণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।

অর্থ বাণিজ্য শীর্ষ সংবাদ