রমজানে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিতের নির্দেশ, দাম বাড়ানোর পরিকল্পনা নেই: জ্বালানি মন্ত্রী

রমজানে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিতের নির্দেশ, দাম বাড়ানোর পরিকল্পনা নেই: জ্বালানি মন্ত্রী

বাংলাদেশ ডেস্ক

পবিত্র রমজান মাসে ইফতার, তারাবি ও সেহেরির সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। একই সঙ্গে আপাতত বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন।

রোববার (৮ মার্চ) রাজধানীর সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি জানান, রমজান মাসে বিদ্যুৎ সরবরাহে যাতে কোনো ধরনের বিঘ্ন না ঘটে, সে বিষয়ে বিদ্যুৎ বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। বিশেষ করে ইফতার, তারাবি নামাজ ও সেহেরির সময় বিদ্যুতের চাহিদা তুলনামূলক বেশি থাকে—এ বিষয়টি বিবেচনায় রেখে বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থাকে প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, দেশে জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আমদানি কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। তিনি জানান, রোববার সকাল প্রায় ১১টার দিকে জ্বালানি তেলবাহী একটি জাহাজ দেশে পৌঁছেছে এবং একই দিনে আরও একটি জাহাজ আসার কথা রয়েছে। এসব জাহাজ থেকে প্রয়োজনীয় জ্বালানি তেল খালাস করে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও অন্যান্য খাতে সরবরাহ করা হবে।

এদিকে চট্টগ্রাম বন্দরে জ্বালানি বহনকারী একাধিক জাহাজ এসে পৌঁছেছে। বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ও তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) বহনকারী মোট আটটি জাহাজ ইতোমধ্যে বন্দরে নোঙর করেছে। এসব জাহাজ মধ্যপ্রাচ্য থেকে যাত্রা করে এবং রোববার সকালে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছায়।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম জানান, জাহাজগুলো গত ২৮ ফেব্রুয়ারির আগেই হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছিল। ফলে সাম্প্রতিক আঞ্চলিক উত্তেজনা বা সম্ভাব্য সংঘাতের প্রভাব তাদের যাত্রাপথে পড়েনি। তিনি বলেন, জ্বালানি বহনকারী এসব জাহাজের আগমন দেশের জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতিকে স্থিতিশীল রাখতে সহায়ক হবে।

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ও সম্ভাব্য সংঘাতের প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও বিতরণ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সম্প্রতি তেল বিক্রির ক্ষেত্রে একটি সীমা নির্ধারণ করেছে। গত শুক্রবার সংস্থাটি এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করে। মূলত সম্ভাব্য সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা থেকে এ ধরনের প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

তবে সরকারিভাবে জানানো হয়েছে, দেশে জ্বালানি তেলের কোনো ঘাটতি নেই এবং বিদ্যমান মজুত ও আমদানি কার্যক্রমের মাধ্যমে চাহিদা পূরণ সম্ভব হবে। সরকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজন অনুযায়ী সরবরাহ ব্যবস্থাপনা জোরদার করছে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ ব্যবস্থায় সামান্য বিঘ্ন ঘটলেও তা দ্রুত দেশের জ্বালানি ব্যবস্থায় প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্প খাত, পরিবহন ও গৃহস্থালি ব্যবহারের বড় অংশই আমদানিনির্ভর জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল। তাই জ্বালানি সরবরাহের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

এ প্রেক্ষাপটে চট্টগ্রাম বন্দরে জ্বালানিবাহী জাহাজের আগমন এবং নতুন জাহাজ আসার তথ্য দেশের জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার ক্ষেত্রে ইতিবাচক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, আমদানি কার্যক্রম অব্যাহত থাকায় নিকট ভবিষ্যতে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের সংকটের সম্ভাবনা নেই।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ