জাতীয় ডেস্ক
বাংলাদেশের সরকার গঠনের পর বিদেশি মিশন প্রধানের দায়িত্বে প্রথম পরিবর্তন আনা হয়েছে। লন্ডনে বাংলাদেশ হাই কমিশনার আবিদা ইসলামকে প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।
শনিবার রাতে কমনওয়েলথের মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে যোগ দিতে লন্ডন পৌঁছে হুমায়ুন কবির এই তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি স্থানীয় বাংলাদেশি সাংবাদিকদের সামনে বলেন, হাই কমিশনার আবিদা ইসলামকে তার বর্তমান পদ থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে এই প্রত্যাহারের অফিস আদেশ এখনও সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়নি।
আবিদা ইসলামকে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে লন্ডন হাই কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিল চব্বিশের ৫ অগাস্টের পরবর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। সেই সময় দেশটির প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন সরকার বিদেশি মিশনগুলোতে রদবদলের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছিল। হাই কমিশনারের দায়িত্ব নেওয়ার আগে আবিদা ইসলাম মেক্সিকোতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তার আগে তিনি দক্ষিণ কোরিয়ায় রাষ্ট্রদূত ও কলকাতায় বাংলাদেশের প্রথম নারী ডেপুটি হাই কমিশনার (প্রধান মিশন) হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন।
হুমায়ুন কবির সাংবাদিকদের বলেন, লন্ডন হাই কমিশন সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করছে এবং বাংলাদেশের স্বার্থে সঠিকভাবে কাজ করছে না। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার এই পরিস্থিতি সমাধানের জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তিনি ইংরেজিতে বলেন, “হাই কমিশনার আবিদা ইসলাম হ্যাজ বিন রিমুভড ফ্রম হার পোস্ট।”
বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন। কমনওয়েলথের মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে অভিন্ন স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা থাকলেও বিস্তারিত আলোচনা সংক্রান্ত তথ্য সাংবাদিকদের এখনও জানানো হয়নি।
বাংলাদেশের কূটনৈতিক ব্যবস্থায় বিদেশি মিশন প্রধানের পরিবর্তন সাধারণত সরকারের নীতিনির্ধারণ ও কূটনৈতিক লক্ষ্য অনুযায়ী করা হয়। লন্ডন হাই কমিশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ মিশনে দায়িত্ব প্রত্যাহার বা পরিবর্তন দেশের আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সম্পর্ক ও সম্প্রদায়ের মধ্যে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এ ধরনের পদক্ষেপে বাংলাদেশের স্বার্থ সুরক্ষায় এবং বিদেশি মিশনের কার্যকারিতা বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে কূটনৈতিক সম্প্রদায় ও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক মহল পদক্ষেপের প্রভাব ও পরবর্তী কূটনৈতিক রূপরেখা নিয়ে পর্যবেক্ষণ করছে। দেশের বিদেশ নীতি ও কূটনৈতিক কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতার পাশাপাশি স্থানীয় কমিউনিটির সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের সম্ভাবনাও এ সিদ্ধান্তের গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


