বাংলাদেশ ডেস্ক
আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে অগ্রিম ট্রেনের টিকিট বিক্রির কার্যক্রমের শেষ দিন আজ সোমবার (৯ মার্চ)। এদিন বিক্রি হচ্ছে আগামী ১৯ মার্চের যাত্রার টিকিট। ঈদযাত্রাকে কেন্দ্র করে যাত্রীদের চাপ সামাল দিতে এবং যাতায়াতকে সুশৃঙ্খল রাখতে বাংলাদেশ রেলওয়ে ধাপে ধাপে অগ্রিম টিকিট বিক্রির এ ব্যবস্থা চালু করেছে।
রেলওয়ের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, সোমবার সকাল ৮টা থেকে পশ্চিমাঞ্চলের সব আন্তনগর ট্রেনের টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে। অন্যদিকে পূর্বাঞ্চলের আন্তনগর ট্রেনগুলোর টিকিট বিক্রি শুরু হবে দুপুর ২টা থেকে। যাত্রীদের সুবিধা এবং সার্ভারে অতিরিক্ত চাপ এড়াতে অঞ্চলভিত্তিক এই সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানায়, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সম্প্রতি রাজধানীর রেল ভবনে একটি প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় যাত্রীচাপ, অনলাইন টিকিটিং ব্যবস্থাপনা এবং স্টেশন ব্যবস্থাপনা বিবেচনায় নিয়ে অগ্রিম টিকিট বিক্রির সূচি চূড়ান্ত করা হয়। এর মাধ্যমে যাত্রীদের আগাম পরিকল্পনার সুযোগ দেওয়া এবং স্টেশনে ভিড় কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
গত ৩ মার্চ থেকে শুরু হওয়া অগ্রিম টিকিট বিক্রির কার্যক্রম ধাপে ধাপে পরিচালিত হয়। প্রথম দিনে ১৩ মার্চের যাত্রার টিকিট বিক্রি করা হয়। পরবর্তী দিনগুলোতে পর্যায়ক্রমে ১৪, ১৫, ১৬, ১৭ ও ১৮ মার্চের যাত্রার টিকিট বিক্রি করা হয়। সর্বশেষ আজ ১৯ মার্চের যাত্রার টিকিট বিক্রির মধ্য দিয়ে এবারের অগ্রিম টিকিট বিক্রির প্রাথমিক ধাপ শেষ হচ্ছে।
তবে ঈদের তারিখ চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় ২০, ২১ ও ২২ মার্চের যাত্রার টিকিট বিক্রির বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চাঁদ দেখা এবং ঈদের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণের পর ওই দিনগুলোর টিকিট বিক্রির বিষয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে এবং তা পরবর্তী সময়ে জানানো হবে।
রেলওয়ের নীতিমালা অনুযায়ী, একজন যাত্রী একবারে সর্বোচ্চ চারটি আসনের টিকিট ক্রয় করতে পারবেন। এতে করে অধিকসংখ্যক যাত্রীর মধ্যে টিকিট বণ্টনের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে কর্তৃপক্ষ মনে করছে। একই সঙ্গে জানানো হয়েছে, অগ্রিম কেনা টিকিট ফেরত বা রিফান্ড করার সুযোগ থাকবে না। ঈদযাত্রার সময় টিকিটের অপব্যবহার বা কালোবাজারি প্রতিরোধে এই বিধান কার্যকর রাখা হয়েছে।
এদিকে যাত্রীদের অতিরিক্ত চাহিদা বিবেচনায় নন-এসি কোচের মোট আসনের ২৫ শতাংশ ‘দাঁড়িয়ে যাওয়ার টিকিট’ বা স্ট্যান্ডিং টিকিট সংরক্ষণ করা হয়েছে। এসব টিকিট নির্দিষ্ট ট্রেনের যাত্রা শুরুর আগে সংশ্লিষ্ট ট্রেনের প্রারম্ভিক স্টেশন থেকে সংগ্রহ করা যাবে। এর মাধ্যমে শেষ মুহূর্তে যাত্রা করতে আগ্রহী যাত্রীদের জন্য অতিরিক্ত সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে।
ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে প্রতিবছর দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ রাজধানীসহ বড় শহরগুলো থেকে নিজ নিজ বাড়িতে ফেরেন। এ সময় রেলপথে যাত্রীচাপ তুলনামূলক বেশি থাকে। সে কারণে যাত্রীদের নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল যাত্রা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ রেলওয়ে অগ্রিম টিকিট বিক্রি, অনলাইন ব্যবস্থাপনা এবং স্টেশনভিত্তিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন প্রস্তুতি গ্রহণ করে থাকে।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, ঈদযাত্রাকে কেন্দ্র করে ট্রেনের সময়সূচি মেনে চলা, অতিরিক্ত যাত্রীচাপ নিয়ন্ত্রণ এবং স্টেশন এলাকায় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে যাত্রীদের নির্ধারিত নিয়ম মেনে টিকিট সংগ্রহ এবং ভ্রমণের সময় নিরাপত্তা নির্দেশনা অনুসরণের আহ্বান জানানো হয়েছে।


