অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে সংঘাত শুরুর আগেই প্রায় আড়াই লাখ টন তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি)সহ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করে আসা ১৫টি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাতে শুরু করেছে। এসব জাহাজে এলএনজি, তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি), বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি তেল এবং শিল্পকারখানার কাঁচামাল পরিবহণ করা হচ্ছে।
চট্টগ্রাম বন্দর সূত্র জানায়, জাহাজগুলো মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন বন্দর থেকে বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল। সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি সত্ত্বেও সংঘাত শুরু হওয়ার আগে জাহাজগুলো নিরাপদে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে সক্ষম হয়েছে। বর্তমানে এসব জাহাজ ধাপে ধাপে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাচ্ছে এবং পণ্য খালাসের কার্যক্রম চলছে।
জাহাজগুলোর মধ্যে অন্তত চারটিতে মোট প্রায় ২ লাখ ৪৭ হাজার টন এলএনজি রয়েছে, যা প্রধানত কাতারের রাস লাফান বন্দর থেকে আনা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্র ও শিল্পকারখানায় গ্যাস সরবরাহের জন্য এই এলএনজি ব্যবহৃত হবে। এছাড়া, একটি জাহাজে এলপিজি এসেছে, যা গৃহস্থালি রান্নার সিলিন্ডার, হোটেল-রেস্তোরাঁ এবং ছোট শিল্পকারখানায় ব্যবহার হবে।
কিছু জাহাজে বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহৃত ফার্নেস ওয়েল, শিল্পখাতে ব্যবহৃত ডিজেলসহ অন্যান্য পেট্রোলিয়াম পণ্য পরিবহণ করা হয়েছে। এছাড়া কয়েকটি কার্গো জাহাজে রাসায়নিক পদার্থ, পেট্রোকেমিক্যাল উপকরণ ও প্লাস্টিক শিল্পের কাঁচামাল রয়েছে, যা দেশের উৎপাদনমুখী শিল্পে ব্যবহার করা হবে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের কারণে এই পথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব পড়তে পারে। এ কারণে সংঘাত শুরুর আগেই জাহাজগুলো বাংলাদেশে পৌঁছানো দেশের জ্বালানি ও আমদানি সরবরাহের জন্য স্বস্তির বিষয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বন্দর কর্মকর্তা আরও জানান, জাহাজগুলোর মধ্যে ‘লুসাইল’ এবং ‘আল গালায়েল’ নামের এলএনজি ট্যাংকার রয়েছে। সামুদ্রিক জাহাজের জ্বালানি এবং শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল পরিবহণকারী অন্যান্য কার্গো জাহাজও বন্দরে পৌঁছেছে। প্লাস্টিক, পেট্রোকেমিক্যাল ও রাসায়নিক কাঁচামাল দেশের গার্মেন্টস, প্লাস্টিক ও রাসায়নিক শিল্পে ব্যবহৃত হবে।
এলএনজি জাহাজগুলোর স্থানীয় প্রতিনিধি ইউনি গ্লোবাল বিজনেস লিমিটেডের জ্যেষ্ঠ উপমহাব্যবস্থাপক মো. নুরুল আলম জানিয়েছেন, চারটি এলএনজি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানো প্রায় নিশ্চিত। তবে ‘লিবারেল’ নামের আরেকটি এলএনজি জাহাজ এখনও হরমুজ প্রণালিতে রয়েছে এবং প্রণালি অতিক্রমের অপেক্ষায় আছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অধিকাংশ জাহাজ ইতিমধ্যেই চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে এবং বাকি জাহাজগুলো পর্যায়ক্রমে পৌঁছাবে। সংঘাতের আগে জাহাজগুলো নিরাপদে বাংলাদেশে পৌঁছানো দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা এবং আমদানি সরবরাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।


