জাতীয় ডেস্ক
সরকারের পাঁচজন মন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীর একজন উপদেষ্টার নামের বানান সংশোধন করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। রবিবার (৮ মার্চ) জারি করা ওই প্রজ্ঞাপনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সরকারি নথিতে ব্যবহৃত নামের বানান ও উপস্থাপনায় সংশোধন আনা হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সরকারি নথিপত্রে সঠিক নাম ব্যবহার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের নামের বানান সংশোধন করা হয়েছে। এর মধ্যে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী হিসেবে উল্লেখিত ‘আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী’ নামটি সংশোধন করে ‘আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী’ করা হয়েছে। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী ‘আব্দুল আউয়াল মিন্টু’র নাম সংশোধন করে ‘আবদুল আউয়াল মিন্টু’ করা হয়েছে।
একই প্রজ্ঞাপনে ধর্মমন্ত্রী ‘কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ’-এর নাম সংশোধন করে ‘কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ)’ করা হয়েছে। কৃষি, খাদ্য এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী হিসেবে উল্লেখিত ‘মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ’-এর নাম সংশোধন করে ‘মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ’ করা হয়েছে। এছাড়া পানি সম্পদ মন্ত্রী ‘মো. শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি’-এর নাম সংশোধন করে ‘মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি’ করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে আরও জানানো হয়, প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় নিয়োজিত প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ‘ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শামসুল ইসলাম’-এর নাম সংশোধন করে ‘ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম’ করা হয়েছে। সংশোধিত নাম অনুযায়ী ভবিষ্যতে সরকারি নথিপত্র, প্রজ্ঞাপন, দাপ্তরিক যোগাযোগ এবং প্রশাসনিক নথিতে এই নামগুলো ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সরকারি প্রশাসনে বিভিন্ন সময়ে মন্ত্রী ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের নামের বানান বা উপস্থাপনায় সামঞ্জস্য বজায় রাখতে সংশোধন আনার নজির রয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা নিজেদের পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র, একাডেমিক নথি বা অন্যান্য সরকারি রেকর্ডে ব্যবহৃত নামের সঙ্গে মিল রেখে বানান সংশোধনের আবেদন করলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ তা যাচাই করে প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সংশোধন প্রকাশ করে থাকে। এতে সরকারি নথি ব্যবস্থাপনায় একরূপতা বজায় থাকে এবং ভবিষ্যতে প্রশাসনিক জটিলতা এড়ানো সম্ভব হয়।
এদিকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী হাফিজ উদ্দিন আহমেদ তার নামের বানান সংশোধনের জন্য আবেদন করেছেন। আবেদনে তার নাম ‘হাফিজ উদ্দিন আহমেদ’ থেকে সংশোধন করে ‘হাফিজ উদ্দিন আহমদ’ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আবেদন ইতোমধ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে জমা দেওয়া হয়েছে এবং প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গত ১৭ ফেব্রুয়ারি নতুন সরকার গঠন করা হয়। ওই নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে বিজয় অর্জনের পর সরকার গঠন করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। একই দিনে ৫০ সদস্যের মন্ত্রিসভা গঠন করা হয় এবং নতুন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের দায়িত্ব বণ্টন করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সংশোধিত প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে মন্ত্রী ও উপদেষ্টাদের নামের বানান সরকারি নথিতে সমন্বয় করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এর ফলে ভবিষ্যতে প্রশাসনিক কার্যক্রম, সরকারি দলিলপত্র এবং দাপ্তরিক যোগাযোগে সংশোধিত নাম ব্যবহার করা হবে।


