বাংলাদেশ ডেস্ক
যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে যশোরে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান রানওয়েতে জরুরি অবতরণ করেছে। সোমবার (৯ মার্চ) দুপুরে সংঘটিত এ ঘটনায় পাইলট নিরাপদে আছেন এবং বিমানের কোনো উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)।
আইএসপিআরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সোমবার দুপুর ১২টা ৪৬ মিনিটে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। এর আগে নিয়মিত প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আকাশে উড্ডয়ন করা বিমানটিতে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে পাইলট পরিস্থিতি বিবেচনায় দ্রুত রানওয়েতে জরুরি অবতরণের সিদ্ধান্ত নেন। পরবর্তীতে নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে বিমানটি নিরাপদে যশোর বিমানঘাঁটির রানওয়েতে অবতরণ করে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, জরুরি অবতরণের সময় বিমানটির বৈমানিক সম্পূর্ণ নিরাপদ ছিলেন এবং অবতরণের পরও তার শারীরিক অবস্থা স্বাভাবিক রয়েছে। একই সঙ্গে বিমানটিরও কোনো বড় ধরনের ক্ষতি হয়নি বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে নিয়মিতভাবে বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ বিমান ব্যবহার করা হয়। এসব বিমানের মাধ্যমে নতুন ও অভিজ্ঞ পাইলটদের উড্ডয়ন দক্ষতা, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং বিভিন্ন অপারেশনাল কৌশল অনুশীলনের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়। প্রশিক্ষণ চলাকালে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় পাইলটদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়, যাতে সম্ভাব্য ঝুঁকি কমিয়ে আনা সম্ভব হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, উড্ডয়ন চলাকালে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়া বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে অস্বাভাবিক নয়। তবে পাইলটের দ্রুত সিদ্ধান্ত, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত দক্ষতা এবং স্থলভিত্তিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার সমন্বয়ের মাধ্যমে এ ধরনের পরিস্থিতি অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নিরাপদভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব হয়। সামরিক ও বেসামরিক উভয় ধরনের বিমান চলাচল ব্যবস্থায়ই জরুরি অবতরণের জন্য নির্দিষ্ট প্রটোকল ও নিরাপত্তা নির্দেশিকা অনুসরণ করা হয়ে থাকে।
যশোর বিমানঘাঁটি বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, যেখানে প্রশিক্ষণ ও অপারেশনাল উড্ডয়ন কার্যক্রম নিয়মিতভাবে পরিচালিত হয়। বিমানঘাঁটিতে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার সময় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা বজায় রাখা হয় এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত দল ও সরঞ্জাম সবসময় প্রস্তুত থাকে।
আইএসপিআর জানিয়েছে, ঘটনাটির কারণ নির্ধারণে প্রয়োজনীয় কারিগরি পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও পর্যালোচনা করা হবে। যান্ত্রিক ত্রুটির প্রকৃতি নির্ণয় এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচিত হয়। পাইলটদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং উড্ডয়ন নিরাপত্তা বজায় রাখতে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, কারিগরি তদারকি এবং নিরাপত্তা নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণ করা হয়। সোমবারের ঘটনায় দ্রুত ও সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।


