বাংলাদেশ ডেস্ক
নারীপ্রধান দরিদ্র ও নিম্নআয়ের পরিবারকে সামাজিক সুরক্ষার আওতায় আনতে পরীক্ষামূলকভাবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি চালু করতে যাচ্ছে সরকার। এই কর্মসূচির আওতায় নির্বাচিত প্রতিটি পরিবারকে মাসিক দুই হাজার ৫০০ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকালে রাজধানীর বনানীর টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে (কড়াইল বস্তি সংলগ্ন) আনুষ্ঠানিকভাবে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করা হবে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক পর্যায়ে পরীক্ষামূলকভাবে দেশের বিভিন্ন এলাকার নারীপ্রধান পরিবারকে অন্তর্ভুক্ত করে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রথম ধাপে দেশের ১৩টি জেলার ১৩টি সিটি করপোরেশন ও ইউনিয়নের ১৫টি ওয়ার্ডে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি চালু করা হচ্ছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে নারীপ্রধান দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোর আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
পাইলটিং পর্যায়ে সারা দেশে মোট ৬৭ হাজার ৮৫৪টি নারীপ্রধান পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। সংগ্রহ করা তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে দরিদ্র, হতদরিদ্র এবং নিম্ন-মধ্যবিত্ত পর্যায়ের ৫১ হাজার ৮০৫টি পরিবারের তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। এই যাচাই প্রক্রিয়ায় ৪৭ হাজার ৭৭৭টি পরিবারের তথ্য সঠিক বলে নিশ্চিত হয়।
তথ্য যাচাইয়ের সময় সরকারি সহায়তা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে পুনরাবৃত্তি বা অনিয়ম এড়াতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই ব্যক্তি একাধিক সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় ভাতা গ্রহণ করছেন কি না, সরকারি চাকরি বা পেনশন সুবিধা পাচ্ছেন কি না—এসব বিষয় বিবেচনায় রেখে তালিকা চূড়ান্ত করা হয়। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ‘ডাবল ডিপিং’ বা একই ব্যক্তির একাধিক ভাতা গ্রহণের ঘটনা শনাক্ত করে বাদ দেওয়া হয়। যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্তভাবে ৩৭ হাজার ৫৬৭টি নারীপ্রধান পরিবারকে এই কর্মসূচির আওতায় ভাতা দেওয়ার জন্য নির্বাচন করা হয়েছে।
ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি নির্বাচিত পরিবারকে একটি করে আধুনিক স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করা হবে। কার্ডটিতে স্পর্শবিহীন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যাতে চিপ, কিউআর কোড এবং এনএফসি (Near Field Communication) সুবিধা যুক্ত রয়েছে। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে উপকারভোগীর পরিচয় যাচাই এবং ভাতা বিতরণ প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও দ্রুত করা সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
একটি পরিবারের জন্য সাধারণত পাঁচজন সদস্যের ভিত্তিতে একটি ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করা হবে। তবে যৌথ বা একান্নবর্তী পরিবারের ক্ষেত্রে সদস্যসংখ্যা পাঁচজনের বেশি হলে প্রয়োজন অনুযায়ী আনুপাতিক হারে একাধিক কার্ড প্রদানের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। এর মাধ্যমে বড় পরিবারগুলোকেও এই কর্মসূচির সুবিধার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
এই কর্মসূচির আওতায় নির্বাচিত প্রতিটি পরিবার মাসিক দুই হাজার ৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, ভবিষ্যতে নগদ অর্থ সহায়তার পাশাপাশি সমমূল্যের খাদ্যপণ্য সরবরাহের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। এতে নিম্নআয়ের পরিবারগুলোর খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাদের জীবনযাত্রার মান কিছুটা উন্নত করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির কার্যকারিতা বাড়াতে এবং সুবিধাভোগী নির্বাচন প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ করতে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা চালুর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি সেই উদ্যোগেরই অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। পাইলট প্রকল্পের বাস্তবায়ন ও মূল্যায়নের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে এই কর্মসূচি দেশের আরও এলাকায় সম্প্রসারণের সম্ভাবনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।


