জাতীয় ডেস্ক
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মঙ্গলবার রাজধানীর বনানীর টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে (কড়াইল বস্তি সংলগ্ন) আনুষ্ঠানিকভাবে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন। তিনি জানান, সরকার গঠনের এক মাসের কম সময়ে দেশের ৩৭ হাজার নারীর হাতে এই কার্ড পৌঁছে গেছে এবং পর্যায়ক্রমে সব পরিবারের প্রধান নারীর কাছে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ নিশ্চিত করা হবে।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা ভোটের সময় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম যে সরকার গঠন করতে পারলে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়ন করব। সেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কর্মসূচি কার্যকর করা হচ্ছে।” তিনি আরও জানান, প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কোনো ধরনের ব্যত্যয় হবে না, যদিও বৈশ্বিক কারণে কিছু ক্ষেত্রে সময় লাগতে পারে।
ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি দেশের নারীদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষমতায়নকে কেন্দ্র করে ডিজাইন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী এই কর্মসূচির মাধ্যমে নারীদেরকে নিজের পরিবার ও সামাজিক জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার সুযোগ সৃষ্টি করা হবে বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “নারীদের ক্ষমতায়ন ছাড়া দেশের সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। নারীদের শিক্ষার প্রসার ও ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”
এ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী পুর্ববর্তী সরকারের উদ্যোগের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া নারীদের মাধ্যমিক পর্যায়ে বিনামূল্যে শিক্ষার ব্যবস্থা করেছিলেন। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার সেই প্রচেষ্টাকে সম্প্রসারিত ও কার্যকর করার লক্ষ্য নিয়েছে।
ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচি দেশের সামাজিক নিরাপত্তা কাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই কার্ডের মাধ্যমে নারীরা সরকারি সহায়তা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং অন্যান্য সামাজিক কল্যাণমূলক সুবিধা গ্রহণে আরও সহজলভ্য হবেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নারীদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষমতায়ন দেশের উন্নয়ন প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে সহায়ক হবে।
সরকারি সূত্র জানায়, প্রথম পর্যায়ে যে ৩৭ হাজার নারীকে কার্ড বিতরণ করা হয়েছে, তাদের মধ্যে সুনির্দিষ্ট দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের নারীরা অন্তর্ভুক্ত। পর্যায়ক্রমে দেশের সব জেলা ও উপজেলা স্তরে এই কর্মসূচি সম্প্রসারিত করা হবে। এ কর্মসূচির মাধ্যমে নারীদের জীবনমান উন্নয়নের পাশাপাশি দেশের দারিদ্র্য হ্রাসে সহায়ক হিসেবে কাজ করার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি সামাজিক নিরাপত্তা নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নারীদের স্বনির্ভর ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। সরকার এ কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের সামাজিক ন্যায় ও সমতা প্রতিষ্ঠার দিকেও নজর রাখছে।
ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় সরকার এখন বিভিন্ন তথ্যভিত্তিক ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা গ্রহণ করছে যাতে সুবিধাভোগীরা সুবিধা গ্রহণে কোন জটিলতায় পড়েন না। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামি কয়েক বছরের মধ্যে দেশের সকল দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের প্রধান নারীর কাছে এই কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে।


