বাংলাদেশ ডেস্ক
বান্দরবানের লামা উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির পাইলট কার্যক্রমের আওতায় ১ হাজার ৯৭টি পরিবারের মাঝে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকালে লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান এমপি উপকারভোগী পরিবারের প্রতিনিধিদের হাতে এ কার্ড তুলে দেন।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, পরিবারের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়নকে লক্ষ্য করে সরকার ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি চালু করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, ব্যক্তিগতভাবে নয় বরং একটি পরিবারকে কেন্দ্র করে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করলে সমাজে টেকসই পরিবর্তন আনা সম্ভব। নারীর ক্ষমতায়ন, দারিদ্র্য হ্রাস এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মাধ্যমে একটি পরিবারের সার্বিক জীবনমান উন্নয়নে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
মন্ত্রী আরও বলেন, পরিবারভিত্তিক সহায়তা ও সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি সম্প্রসারণের মাধ্যমে রাষ্ট্রের সামাজিক দায়বদ্ধতা বাস্তবায়ন করা সম্ভব। এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হয়। তিনি সরকারি বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন।
ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয় লামা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে। এতে সভাপতিত্ব করেন বান্দরবান জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মিজ্ শামীম আরা রিনি। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান-৩০০ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী এমপি, বান্দরবান জেলা পুলিশ সুপার আবদুর রহমান, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মিলটন মুহুরী এবং লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মঈন উদ্দিন।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় উপকারভোগী পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হয় এবং কর্মসূচির উদ্দেশ্য ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়।
লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মঈন উদ্দিন জানান, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির প্রথম ধাপে লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে পরিবারভিত্তিক তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এ পর্যায়ে মোট ১ হাজার ২৭৪টি পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। পরবর্তীতে যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ১ হাজার ৯৭টি পরিবারকে সম্ভাব্য সুবিধাভোগী হিসেবে চূড়ান্ত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
তিনি আরও জানান, প্রাথমিক যাচাইয়ের পর এসব পরিবারের তথ্য কেন্দ্রীয় ফ্যামিলি কার্ড বাছাই কমিটির কাছে পাঠানো হয়। কেন্দ্রীয় পর্যায়ে যাচাই শেষে নির্বাচিত পরিবারগুলোকে চূড়ান্তভাবে সুবিধাভোগী হিসেবে অনুমোদন দেওয়া হয় এবং তাদের মাঝে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু করা হয়।
প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে সুবিধাভোগী পরিবারগুলো ভবিষ্যতে বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি, খাদ্য সহায়তা এবং অন্যান্য সরকারি সেবার আওতায় অগ্রাধিকারভিত্তিতে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সুযোগ পেতে পারে। এতে করে দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারের জন্য সরকারি সহায়তা কার্যক্রমকে আরও কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।
স্থানীয় প্রশাসনের মতে, পাইলট প্রকল্পের অভিজ্ঞতা মূল্যায়নের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে এ কর্মসূচি আরও বিস্তৃত পরিসরে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। এতে পার্বত্য অঞ্চলের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন এবং সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতা বৃদ্ধি পাবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।


