শিক্ষা ডেস্ক
সরকার দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থীদের জন্য ফ্রি ওয়াই-ফাই সুবিধা এবং শিক্ষকদের জন্য ট্যাব বিতরণের পরিকল্পনা প্রণয়ন করছে। একইসঙ্গে শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এই তথ্য জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার (৯ মার্চ) শিক্ষামন্ত্রীর মিডিয়া সেলের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক পোস্টে এ বিষয়টি জানানো হয়। পোস্টে উল্লেখ করা হয়, শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ওয়াই-ফাই সুবিধা দেওয়া হবে। শিক্ষকদের জন্য ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচির অধীনে প্রতিজন শিক্ষককে একটি করে ট্যাব সরবরাহ করা হবে।
এ ছাড়া শিক্ষাখাতের আধুনিকীকরণ ও শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্য শিক্ষা কারিকুলাম রিভিউ এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট উদ্যোগও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এই পদক্ষেপগুলো শিক্ষার ডিজিটালাইজেশন এবং তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এদিকে, বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারে শিক্ষাক্ষেত্রে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য সরকার ১৮০ দিন বা ছয় মাসের একটি কর্মসূচি গ্রহণ করতে যাচ্ছে। সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় কর্মসূচির বিস্তারিত রূপরেখা প্রণয়ন করা হয়। সভায় কর্মসূচির অগ্রাধিকার ও প্রয়োগকৌশল নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করা হবে এবং শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রযুক্তির ব্যবহার আরও বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া শিক্ষকের সক্ষমতা বৃদ্ধি, শিক্ষার্থীদের তথ্যভিত্তিক শেখার সুযোগ এবং শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নের দিকে এটি একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এই প্রকল্পের ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে এবং পর্যায়ক্রমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর অবকাঠামোগত প্রস্তুতি অনুযায়ী ওয়াই-ফাই সংযোগ এবং ট্যাব বিতরণ করা হবে। এছাড়া শিক্ষকদের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ এবং কারিকুলামের আধুনিকীকরণও কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ডিজিটাল শিক্ষা অবকাঠামোর সম্প্রসারণ শিক্ষার্থীদের শিখন প্রক্রিয়ায় নতুন দিক উন্মোচন করবে। এটি শিক্ষার্থীদের অনলাইন রিসোর্স ব্যবহার, ডিজিটাল লার্নিং প্ল্যাটফর্ম এবং ই-লার্নিং কার্যক্রমে অংশগ্রহণ বাড়াতে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে শিক্ষকদের জন্য সরবরাহিত ট্যাব ব্যবহার করে শিক্ষাপদ্ধতিতে প্রযুক্তির কার্যকরী প্রয়োগ সম্ভব হবে।
সরকারি পরিকল্পনার এই ধারা দেশের শিক্ষাক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি, শিক্ষার মান উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থী ও শিক্ষক উভয়ের ডিজিটাল দক্ষতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।


