আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেকোনো যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য হুমকি রোধ করতে হলে আক্রমণকারীদের মুখোমুখি হয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া অপরিহার্য।
মঙ্গলবার তার এক্স (X) একাউন্টে প্রকাশিত এক পোস্টে কালিবাফ বলেন, “আমরা যুদ্ধবিরতি চাইছি না। আমাদের বিশ্বাস, আক্রমণকারীর মুখে আঘাত করতে হবে যাতে তারা শিক্ষা গ্রহণ করে এবং আমাদের দেশের বিরুদ্ধে আর কখনও আগ্রাসনের কথা না ভাবে।” তিনি আরও বলেন, ইহুদিবাদী সরকার তাদের আধিপত্য বজায় রাখতে ‘যুদ্ধ—আলোচনা—যুদ্ধবিরতি—পুনরায় যুদ্ধ’ চক্র চালাচ্ছে এবং এই চক্র ভেঙে ফেলাই তাদের উদ্দেশ্য।
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়েদ আলী খামেনির হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইহুদিবাদী সরকারের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযানের সূচনা হয়। এ অভিযানের সময় বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সামরিক কমান্ডার এবং বেসামরিক নাগরিক নিহত হন।
এই পরিস্থিতির জবাবে, ইরানি সশস্ত্র বাহিনী প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তারা দখলকৃত অঞ্চল ও আঞ্চলিক ঘাঁটিতে আমেরিকান ও ইসরাইলি অবস্থান লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলা পরিচালনা করেছে। ইরান এই পদক্ষেপকে তার সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা দীর্ঘস্থায়ী এবং এটি মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতি জটিল করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের স্পিকার ও সামরিক বাহিনীর প্রতিক্রিয়া থেকে বোঝা যায় যে দেশটি আঞ্চলিক হুমকি মোকাবেলায় দৃঢ় অবস্থান বজায় রাখার লক্ষ্য নিয়ে চলছে।
বর্তমানে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা চালু থাকলেও, ইরানের কঠোর অবস্থান এবং প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ ভবিষ্যতে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক সংঘাতের সম্ভাবনা উস্কে দিতে পারে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলেন, এই পরিস্থিতি কূটনৈতিক উদ্যোগ ও আলোচনার মাধ্যমে উত্তেজনা প্রশমনের প্রয়োজনীয়তা আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
ইরানের প্রতিরক্ষা নীতি ও সামরিক প্রতিক্রিয়া নিয়ে চলমান এই উত্তেজনা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। আঞ্চলিক এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি কিভাবে প্রভাবিত হবে, তা আগামী কয়েক সপ্তাহে স্পষ্ট হবে।


