আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, চলমান যুদ্ধের মধ্যে এ পর্যন্ত তারা সবচেয়ে তীব্র ও বৃহৎ সামরিক অভিযান চালিয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রাতভর পরিচালিত এই হামলায় ইসরায়েলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তু এবং এলাকায় থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। তেহরান দাবি করেছে, দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র খোররামশাহও এই অভিযানে ব্যবহার করা হয়েছে।
আইআরজিসি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের পরিকল্পিত ও শক্তিশালী এই হামলা অব্যাহত থাকবে এবং শত্রুর সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ ছাড়া যুদ্ধের কোনো বিকল্প তারা ভাবছে না। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, তাদের দেশের ওপর থেকে যুদ্ধের হুমকি পুরোপুরি দূর না হওয়া পর্যন্ত এই যুদ্ধে সক্রিয় থাকবে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার পেন্টাগনে অনুষ্ঠিত এক ব্রিফিংয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ উল্লেখ করেন, শত্রুকে সম্পূর্ণভাবে পরাজিত না করা পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র অভিযান চালিয়ে যাবে। তিনি বলেন, এই পদক্ষেপ দেশটির নির্ধারিত কৌশল ও সময়সূচি অনুযায়ী বাস্তবায়িত হবে।
এদিকে বুধবার সকালে ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চলে সাইরেন বাজতে শুরু করে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানায়, ইরান থেকে সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের সতর্কবার্তা পাওয়ার পরই সাইরেন বাজানো হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল উত্তেজনার এই নতুন ধাপ মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল করতে পারে। বিশেষ করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের ঘোষণার কারণে অঞ্চলটি সামরিক, রাজনৈতিক এবং কূটনৈতিকভাবে অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও বিষয়টি নজরে রাখছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে যেকোনো বড় ধরনের সংঘাতের সম্ভাবনা কমানোর জন্য কূটনৈতিক প্রয়াস জোরদার করেছে।
এই ঘটনাটি ইরানের সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শন এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলকে সতর্ক করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানের মাত্রা এবং সরঞ্জাম ব্যবহারের পরিধি বিবেচনা করলে, এই সংঘর্ষ দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে এবং অঞ্চলীয় নিরাপত্তা পরিস্থিতি দীর্ঘদিন স্থিতিশীল নাও থাকতে পারে।


