আইন আদালত ডেস্ক
সদ্য পদত্যাগ করা প্রসিকিউটর সাইমুম রেজা তালুকদারের বিরুদ্ধে কোটি টাকা ঘুষ চাওয়ার অভিযোগে ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটির কার্যক্রম আজ বুধবার (১১ মার্চ) থেকে শুরু হয়েছে। দুপুর ১২টা থেকে কাজ শুরু করা পাঁচ সদস্যের কমিটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত ও প্রসিকিউশনের সার্বিক বিষয় পর্যালোচনা করবে।
গতকাল বিকেলে দীর্ঘ বৈঠকের পর চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম এই কমিটি গঠন করেন। কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন চিফ প্রসিকিউটর নিজেই। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন প্রসিকিউটর আবদুস সোবহান তরফদার, নতুন নিয়োগ পাওয়া প্রসিকিউটর মার্জিনা রায়হান মদিনা, মোহাম্মদ জহিরুল আমিন এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ল’ রিসার্চ অফিসার সিফাতুল্লাহ।
প্রসিকিউশন সূত্রে জানা গেছে, পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত ও প্রসিকিউশনের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং আসামি বা পরিবারের কাছে দফায় দফায় ফোন করে কোনো ধরনের ঘুষ চাওয়ার বিষয়সহ অন্যান্য অনিয়ম অনুসন্ধান করতে এই ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করা হয়েছে।
তদন্তের মূল কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আসামি সাবেক সংসদ সদস্য ফজলে করিম চৌধুরীর বিষয়ে। অভিযোগ অনুযায়ী, সাইমুম রেজা তালুকদার তার পরিবারকে ফোন করে তাকে জামিন বা অব্যাহতি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে কোটি টাকা ঘুষ চাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন।
আইনমন্ত্রকের কর্মকর্তা ও প্রসিকিউশনের জ্যেষ্ঠ সদস্যদের সঙ্গে একাধিক বৈঠকের পর এ কমিটি তার কার্যক্রম শুরু করেছে। কমিটির কাজের মধ্যে রয়েছে সংশ্লিষ্ট কল রেকর্ড, প্রাসঙ্গিক নথি, সাক্ষী ও অন্যান্য প্রমাণাদি সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা। এ তথ্যের ভিত্তিতে কমিটি প্রতিবেদন প্রস্তুত করবে যা ভবিষ্যতে ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন প্রক্রিয়ায় গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই কমিটির অনুসন্ধান কার্যক্রম আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি, ভবিষ্যতে অনুরূপ অভিযোগের পুনরাবৃত্তি রোধে এটি নীতিমালা নির্ধারণে সহায়ক হবে।
কমিটির কাজ চলাকালীন সময়ে সাইমুম রেজা তালুকদারের পক্ষ থেকেও প্রয়োজনীয় তথ্যাদি সরবরাহ করা হবে বলে জানা গেছে। প্রসিকিউশন আশা করছে, সংকলিত তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ সম্ভব হবে।
ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটির কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর চূড়ান্ত প্রতিবেদন চিফ প্রসিকিউটর কর্তৃক অনুমোদিত হবে এবং সংশ্লিষ্ট আইন ও ট্রাইব্যুনাল বিধি অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।


