বাংলাদেশে ব্যাংক ও আর্থিক খাতে নারী কর্মীর সংখ্যা কমছে

বাংলাদেশে ব্যাংক ও আর্থিক খাতে নারী কর্মীর সংখ্যা কমছে

অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক

দেশের ব্যাংক ও ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত নারী কর্মীর সংখ্যা সাম্প্রতিক ছয় মাসে উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রকাশিত **ব্যাংক ও আর্থিক খাতের নারী-পুরুষ সমতা বিষয়ক প্রতিবেদন** অনুযায়ী, গত ছয় মাসে ব্যাংকে ৭২১ জন এবং ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ৪৯ জন নারী কর্মী কমেছে।

তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে ব্যাংক খাতে নারী কর্মীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৫ হাজার ৬১ জন, যা ২০২৪ সালের জুনের ৩৫ হাজার ৭৮২ জনের তুলনায় কম। একই সময়ে ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানে নারী কর্মী কমে ১ হাজার ১৯ জনে নেমেছে, যা জুনে ছিল ১ হাজার ৬৮ জন।

বর্তমানে ৬১টি ব্যাংক ও ৩৫টি ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনে দেখা যায়, মোট ব্যাংক ও আর্থিক খাতের কর্মীর সংখ্যা ২ লাখ ১৮ হাজার ৪৮৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৮২ হাজার ৪০৭ জন এবং নারী ৩৬ হাজার ৮০ জন। ফলে এই খাতে নারীর অংশগ্রহণ মাত্র সাড়ে ১৬ শতাংশ।

খাত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর কিছু সংকটাপন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের একীভূতকরণ ও বন্ধের উদ্যোগ নেওয়ার কারণে কর্মী ছাঁটাই এবং স্বেচ্ছায় চাকরি ত্যাগের ঘটনা ঘটেছে। এই প্রক্রিয়ায় নারী কর্মীরাও আক্রান্ত হয়েছেন।

প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ব্যাংক খাতের নারীর সবচেয়ে বড় অংশ বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকে কর্মরত। ২০২৪ সালের শেষে এসব ব্যাংকে নারী কর্মীর সংখ্যা ছিল ২২ হাজার ৯৮৩ জন। রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকে নারী কর্মীর সংখ্যা ৯ হাজার ১৪৭ জন, বিশেষায়িত ব্যাংকে ১ হাজার ৯৪৭ জন এবং বিদেশি ব্যাংকে ৯৮৪ জন।

তবে পদভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ব্যাংক খাতে উচ্চপর্যায়ের পদে নারীর উপস্থিতি সবচেয়ে কম। এই পর্যায়ে নারী কর্মীর হার মাত্র ১০.৩৫ শতাংশ, যা দীর্ঘমেয়াদে লিঙ্গ বৈষম্য ও পদে সমতার অভাবকে নির্দেশ করছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধির জন্য কার্যকর নীতি, প্রশিক্ষণ ও পদোন্নতি ব্যবস্থার প্রয়োজন। নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি হলে শুধু লিঙ্গ সমতা নয়, ব্যাংকিং খাতের নৈতিক ও কর্মক্ষমতা উন্নয়নেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

অর্থ বাণিজ্য শীর্ষ সংবাদ