বিএনপির লক্ষ্য প্রতিটি পরিবারকে স্বনির্ভর করা: প্রধানমন্ত্রী

বিএনপির লক্ষ্য প্রতিটি পরিবারকে স্বনির্ভর করা: প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার উদ্বোধনী বক্তব্যে জানিয়েছেন, দলের অন্তর্ভুক্তি বা রাজনৈতিক মতের ভেদাভেদ ছাড়া তিনি দেশের সকল জনগণের প্রতিনিধিত্ব করছেন। তিনি বলেন, প্রতিটি পরিবারকে স্বনির্ভর করা বিএনপির মূল লক্ষ্য, যা বাস্তবায়িত হলে দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।

সকাল সোয়া ১১টার কিছু আগে অনুষ্ঠিত অধিবেশনের সূচনা হয়েছিল পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে। এরপর প্রধানমন্ত্রী সংসদ সদস্যদের উদ্দেশ্যে বলেন, দেশকে স্বনির্ভর করতে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, স্বনির্ভর বাংলাদেশ গঠনে কোনো রাজনৈতিক বিরোধিতা গ্রহণযোগ্য নয় এবং এ ক্ষেত্রে সকল দলের সমন্বয় অত্যন্ত জরুরি।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, “দল-মত-নির্বিশেষে আমি দেশের জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। প্রতিটি পরিবারের জীবনমান উন্নত করতে, তাদের স্বনির্ভর করার লক্ষ্যে আমাদের নীতি নির্ধারণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্য অর্জনে সবাইকে সহযোগিতা করতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, দেশে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পরিবারের অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা অপরিহার্য। প্রতিটি পরিবার যদি স্বনির্ভর হয়, তবে স্থানীয় উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে এবং দারিদ্র্য ও সামাজিক অসাম্য হ্রাস পাবে। প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে এ ধরনের নীতিমূলক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য সংসদের সমন্বয় ও নীতি প্রণয়নের গুরুত্বও তুলে ধরেন।

বক্তৃতার এক পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া কে সম্বোধন করে বলেন, দেশনেত্রী জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত গণতন্ত্র রক্ষার জন্য লড়াই করেছেন এবং কোনো ধরনের স্বৈরাচার বা ফ্যাসিবাদের সঙ্গে আপস করেননি। তিনি খালেদা জিয়ার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এর প্রতিও শ্রদ্ধা জানান।

অধিবেশনের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বনির্ভরতার ধারায় কাজ করা দেশের জন্য একটি সমন্বিত প্রক্রিয়া, যেখানে সরকারের পাশাপাশি রাজনৈতিক দল, সমাজসেবা প্রতিষ্ঠান ও নাগরিক সমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য। তিনি বলেন, “যেখানে প্রতিটি পরিবার অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হবে, সেখানে জাতির সার্বিক উন্নয়ন সহজতর হবে। এটি আমাদের জাতীয় লক্ষ্য।”

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দেশের প্রতিটি পরিবারকে স্বনির্ভর করার দিকে মনোযোগ দেওয়া হলে দীর্ঘমেয়াদি দারিদ্র্য হ্রাস এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি পেতে পারে। এ ধরনের নীতি বাস্তবায়নে স্থানীয় পর্যায়ে প্রশিক্ষণ, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ, কৃষি ও ব্যবসায়িক সহায়তা প্রদান এবং সামাজিক সুরক্ষা কাঠামো শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে সরকারের পাশাপাশি রাজনৈতিক দলের সক্রিয় সহযোগিতা আহ্বান জানানো হয়েছে। তিনি সংসদ সদস্যদের কাছে আশা প্রকাশ করেন যে, প্রতিটি পরিবারের স্বনির্ভরতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সকলকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

এ ধরনের নীতিমূলক উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ত্বরান্বিত হবে, কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি পাবে এবং সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে সহায়ক হবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, রাজনৈতিক সংহতি ও সহযোগিতা থাকলে স্বনির্ভর বাংলাদেশ অর্জন সম্ভব এবং এটি জাতীয় উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে পারে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ